পাতা:বত্রিশ সিংহাসন - নীলমণি বসাক.pdf/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

এয়ােবিংশ পুত্তলিকা।

১৬১

আসন পরিগ্রহ পূর্ব্বক বসিলেন, এবং তাঁহার সভাস্থ সমস্ত লোক তাহার চতুর্দিকে উপবিষ্ট হইল। পুত্তলিকা কহিতে লাগিল হে ভূপাল তবে তুমি, রাজা বিক্রমাদিত্যের গুণমাহাত্ম্য শ্রবণ কর।

 রাজা বিক্রমাদিত্য যেমন সাহসী, যশস্বী ও পুণ্যাত্মা। ছিলেন কলিযুগে তণ্ডুল্য আর কেহ অদ্যাপি জন্ম গ্রহণ করে নাই, পরে জন্মিবে এমতও অনুভব হয় না। যখন রাজা বিক্রমাদিত্য স্বীয় সহোদর শঙ্কুকে সংহার করিয়া তাহার সিংহাসন রোহণ করিলেন, তখন তাহার প্রধান মন্ত্রীকে কহিলেন অহে মন্ত্রি, পুরাতন লোকদিগের দ্বারা আমার রাজকর্ম্ম নির্বাহ হইবেক না। অতএব তুমি আমাকে রাজকর্ম্মক্ষম বিচক্ষণ বিংশতি জন মনুষ্য আনিয়া দাও, আমি তাহাদের দ্বারা রাজকর্ম্ম করাইব। মন্ত্রী রাজাজ্ঞানুসারে বিংশতি জন রূপবান, সৎকুলোদ্ভব, বিচক্ষণ মনুষ্য আনিয়া দিলেন। রাজা তাহাদিগকে দেখিয়া অতিশয় সন্তুষ্ট হইলেন, এবং সকলকে শিরোপা ও তাম্বুল দান পূর্বক সম্মান করিয়া, উপস্থিত থাকিতে আজ্ঞা দিলেন। কয়েক দিবস পরে, তাহাদিগের কাহাকে মন্ত্রী, কাহাকে নগরপাল, কাহাকে সেনাপতি, এই প্রকার এক এক জনকে এক এক কর্মে নিযুক্ত করিয়া, পুরাতন কর্ম্মকারক গণকে বিদায় দিলেন, এবং রাজকর্মের নুতন নিয়মাদি করিলেন। পুরাতন কর্ম্মকারীর মধ্যে কেবল ঐ প্রধান মন্ত্রীই থাকিলেন।

 নুতন লোক নিযুক্ত হইলে পর, কর্ম্মভ্রষ্ট কর্ম্ম-