পাতা:বত্রিশ সিংহাসন - নীলমণি বসাক.pdf/১৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পঞ্চবিংশ পুত্তলিকা।

১৭৯

হরিশ্চন্দ্র যেপ্রকার দাতা ছিলেন আপনিও সেইরূপ, আপনার যশে তাবৎ জগৎ আচ্ছন্ন করিয়া রাখিয়াছে। আমি কালিকার পুত্র, ভাট বংশে জন্ম গ্রহণ করিয়াছি, সম্প্রতি আমি আপনার স্থানে যাচ ঞার্থ আসিয়াছি, আপনি আমার মনোবাঞ্ছা সিদ্ধি করুন। আমি তাবৎ পৃথিবী ভ্রমণ করিয়া দেখিলাম, আপনি ভিন্ন আমার আশা পূর্ণ হইবার আর স্থান নাই। রাজা জিজ্ঞাসা করিলেন তোমার কি বাসনা প্রকাশ করিয়া বল। ভাট কহিল আমার যেপ্রকার অদৃষ্ট, তাহাতে মনোবাঞ্ছা প্রকাশ করা ধৃষ্টতামাত্র, কিন্তু মহারাজ যদি আমাকে আশ্বাস দেন তবে সাহস করিয়া প্রকাশ করিতে পারি। রাজা বচনদত্ত হইলেন। তখন ভাট কহিল মহারাজ আমার কন্যা দ্বাদশবর্ষীয়া হইয়াছে, তাহার বিবাহ দিবার সামর্থ্য নাই, এই দায় হইতে আমাকে মুক্ত করুন। রাজা ঈষদ্ধান্য পূর্ব্বক মন্ত্রীকে কহিলেন এ ব্যক্তি যাহা চাহে তাহা দাও। ভাট বলিল মহারাজ আপনার যাহা দিবার বাঞ্ছা হয় তাহ আপন সম্মুখে আনাইয়া দেউন, একালে সংসারে কাহাকেও বিশ্বাস হয় না। এই কথায় রাজা দশ লক্ষ মুদ্রা এবং কয়েক থাল হীরা মতি স্বর্ণ ও রজতালঙ্কার পূর্ণ করিয়া তাহাকে দিলেন। ভাট তাহা পাইয়া মহাসন্তোষে রাজাকে আশীর্বাদ পূর্ব্বক গৃহে আসিল, এবং যে সমস্ত মুদ্রা ও অলঙ্কার আনিল কন্যার বিবাহে সমুদয় ব্যয় করিল, কিছুমাত্র রাখিল না।