পাতা:বত্রিশ সিংহাসন - নীলমণি বসাক.pdf/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

একত্রিংশ পুত্তলিকা।।

২০৩

মান হইলেন। মনে মনে কহিতে লাগিলেন হায়, আমার সকল আশা বিফল হইল, আমি এই সিংহাসনে বসিতে পারলাম না, ইহা শুনিলে সকলে আমাকে উপহাস করিবে। আমি আপন নির্মল কুলে কলঙ্ক পঙ্ক প্রলেপ দিলাম। ভোজরাজ মনে মনে এই সকল চিন্তা করিয়া অধোবদনে সিংহাসনের সম্মুখে দণ্ডায়মান থাকিলেন। পুনর্ব্বার মনে মনে কহিতে লাগিলেন রাজা বিক্রমাদিত্য যেপ্রকার মাতৃগন্ত হইতে উদ্ভব হইয়াছিলেন আমিও সেই প্রকার হইয়াছি, অতএব আমি কেন আপন অভিলাষ সিদ্ধ না করিব। ইহা ভাবিতে ভাবিতে কখন কখন তাহার অন্তঃকরণে লজ্জা বোধ, ও কখন কখন ক্রোধোদয় হইতে লাগিল। তাহাতে অধৈর্য্য হইয়া প্রতিজ্ঞা করিলেন অবশ্যই সিংহাসনে উপবেশন করিব। এই প্রতিজ্ঞা করিয়া সিংহাসনে উঠিতে উদ্যত হইলে,

কৌশল্যা একত্রিংশ পুত্তলিকা

কহিল, হে ভোজরাজ তুমি অতি মূখ, তুমি জ্ঞানের কথা শুননা, এবং সাহস যে পদার্থ, তাহাকে অতিসামান্য জ্ঞান কর হে রাজন, পিত্তল কখন কাঞ্চনের ন্যায় গণ্য হইতে পারেন, শীসা কখন হীরকের তুল্য হয় না, এবং নিস্ব কখন চন্দনের গুন প্রাপ্ত হয় না। অতএব তুমি কি সাহসে রাজা বিক্রমাদিত্যের তুল্য হইতে চাই। তোমার ইহাতে লজ্জা হয় না। পুত্তলিকার এই বাক্যে