ՏԵ-br বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র : অষ্টম খন্ড lこ○○ l মোঃ ইদ্রিস ঃ জোয়ার কাছাড় থানা- ফেনী জেলা- নোয়াখালী পাক বাহিনী অত্র এলাকায় প্রবেশ করিয়া দালালদের সহযোগিতায় প্রায় প্রতি গ্রামেই প্রবেশ করে এবং অকস্মাৎ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বাড়ী আক্রমণ করিয়া তাহদের বন্দী করিয়া শিবিরে লইয়া আসে এবং প্রকাশ্যে রাস্তার উপর দাঁড় করাইয়া গুলি করিয়া হত্যা করে। ইহা ছাড়া তাহারা প্রতি গ্রাম গ্রামে প্রবেশ করিয়া নিরীহ জনগণকে হঠাৎ আক্রমণ করিয়া গুলি, বেয়নেট চার্জ, লাঠিচার্জ বিভিন্ন উপায়ে হত্যা করে। পাক সেনারা এই এলাকায় প্রায় ৪৯ জন লোককে হত্যা করিয়াছে। নিহতদের মাঝে কিছুসংখ্যকের নাম উল্লেখ করা যায়, যেমনঃ ১। মমিনুল হক, ২ তারিকুন নেছা বেওয়া, ৩। আমিনুল হক, ৪। আবুল খায়ের, ৫। হোসনে আরা বেগম, ৬। মোহছেরা বেগম, ৭। হাজেরা খাতুন, ৮। সুলতান আহমদ, ৯। মুজা মিঞা, ১০। মকবুল, ১১। অহিদুর রহমান, ১২। আব্দুল গফুর, ১৩। বোয়দুল হক, ১৪। আমিনুল হক, ১৫। সামসুল হক, ১৬। আব্দুস সালাম, ১৭। ইয়াকুব আলী, ১৮। আব্দুস বারিক, ১৯ জুলেখা খাতুন ইত্যাদি। ইহা ছাড়া পাক বাহিনীরা এই এলাকায় বহু অপরিচিতি লোক বন্দী করিয়া প্রকাশ্যে তাহাদের দাঁড় করাইয়া গুলি করিয়া হত্যা করিয়াছে। মঠবাড়ীয়ার জনাব হাবিব উল্লাহ পাক বাহিনীর অত্যাচার হইতে আত্মরক্ষার জন্য তাহার নিজ বাড়িতে বাঙ্কারে স্বপরিবারে আত্মগোপন করে। কিন্তু পাক বাহিনী তাহাদের ধরিয়া ফেলে। পরে তাহাদের ব্যায়নেট চার্জ করিয়া হত্যা করে। পাক বাহিনীরা এই ইউনিয়নে বহু নারীর ইজ্জত হরণ করিয়াছে। ধর্মপুর ইউনিয়নে পাক সেনারা এই এলাকার জনাব আহসান সাহেবের উপর পৈশাচিক ব্যবহার করিয়া তাহাকে গুলি করিয়া হত্যা করিয়াছে। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ যে জনাব আহসান সাহেব মুক্তি বাহিনীদের সাহায্য করিতেন। এই জন্য স্থানীয় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ও মেম্বার তাহার উপর অত্যাচার করিতে থাকে। অবশেষে দালালদ্বয় তাহার নাম পাক সেনাদের নিকট জানাইলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য বন্ধুরাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু দালালরা তাহাকে সেখান হইতে রাত্রিতে গোপনে ধরিয়া আনিয়া পাক সেনাদের নিকট হস্তান্তর করে। পাক সেনারা তাহার উপর প্রায় ৫দিন ধরিয়া দৈহিক নির্যাতন চালায়। অবশেষে তিনি পাক সেনারা অনুরুপভাবে মজলিসপুর গ্রাম হইতে জনাব আবুল খায়ের নামক একজন মুক্তিবাহিনীর বাড়ী আকস্মাৎ আক্রমণ করিয়া তাহাকে বন্দী করিয়া পাক সেনাদের শিবিরে লইয়া আসে। পরে করে। প্রায় ৫দিন ধরিয়া তাহার উপর দৈহিক নির্যাতন চালাইবার পর পাক সেনারা তাহার নিকট হইতে কোন সংবাদ জানিতে না পারিয়া তাহাকে জ্যান্ত কবর দিয়ে হত্যা করিয়াছে।
পাতা:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (অষ্টম খণ্ড).pdf/৩১৫
অবয়ব