পাতা:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (দশম খণ্ড).pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র : দশম খণ্ড
4

 প্রায় ২০ হাজার, যার মধ্যে ৮ হাজারকে অ্যাকশন গ্রুপ হিসাবে গড়ে তোলা হয়। এদের মধ্যে শতকরা ৩৫ ভাগকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাগুলি দেয়া হয়েছিলো।

 ২ নম্বর সেক্টরঃ কুমিল্লা ও ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী ও ঢাকার অংশবিশেষ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমাণ্ডার নিযুক্ত হন মেজর খালেদ মোশাররফ। সেক্টরটি ৬টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিলো। সমগ্র সেক্টরে নিয়মিত বাহিনীর সদস্য ছিলো প্রায় ৪ হাজার এবং গেরিলা ছিলো ৩০ হাজার।

 ৩ নম্বর সেক্টরঃ মেজর কে এম সফিউল্লাহর অধীনে মৌলবীবাজার মহকুমা,ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা, নারায়নগঞ্জ মহকুমা, এবং কেরানীগঞ্জের অংশবিশে নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। ১০টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত এই সেক্টরের গেরিলা সদস্যোর সংখ্যা ছিলো প্রায় ১০ হাজার। এস ফোর্স গঠনের পর মেজর সফিউল্লাহকে তাঁর কমাণ্ডার নিযুক্ত করা হয়। মেজর নূরুজ্জামানকে ৩ নম্বর সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।

 ৪ নম্বর সেক্টরঃ উত্তরে সিলেট সদর এবং দক্ষিণে হবিগঞ্জ থানার মধ্যবর্তী সমস্ত অঞ্চল নিয়ে গঠিত এই সেক্টরের কমাণ্ডার নিযুক্ত হন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত। সেক্টরটি ৬ টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিলো। সেক্টরের সৈন্যসংখ্যা ছিলো ২ হাজার এবং গেরিলা ছিলো ৮ হাজার। সেক্টর হেডকোয়ার্টার ছিলো করিমগঞ্জে। পরে তা নাসিমপুরে স্থানান্তর করা হয়।

 ৫ নম্বর সেক্টরঃ সিলেট জেলার উত্তরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই সেক্টরে কমাণ্ডার নিযুক্ত হন মেজর মীর শওকত আলী। সেক্টরে নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮শ এবং গেরিলা ছিলো ৭ হাজার। সেক্টরটি ৬ সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিলো।

 ৬ নম্বর সেক্টরঃ এই সেক্টর রংপুর ও দিনাজপুর জেলা নিয়ে গঠিত। উইং কমাণ্ডার এম কে বাশার ছিলেন সেক্টর কমাণ্ডার। সাব সেক্টর সংখ্যা ছিলো ৫টি। সৈন্যসংখ্যা ছিলো প্রায় ১২শ' এং গেরিলা ছিলো ৬ হাজার। সেক্টর হেডকোয়ার্টার ছিলো রংপুর জেলার পাটগ্রামের নিকট বুড়িমারীতে।

 ৭ নম্বর সেক্টরঃ রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া জেলা এং দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমাণ্ডার নিযুক্ত হন মেজর নাজমুল হক। যুদ্ধকালে এক মটর দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেলে সেক্টর কমাণ্ডার হিসাবে মেজর কিউ এন জামন দায়িত্ব গ্রহন করেন। সাব-সেক্টরের সংখ্যা ছিলো ৮টি। সৈন্যসংখ্যা প্রায় ২ হাজার এবং গেরিলার সংখ্যা ছিলো ২ হাজার।

 ৮ নম্বর সেক্টরঃ ১৫ই জুলাই পর্যন্ত এ সেক্টরে কমাণ্ডার ছিলেন মেজর এম এ ওসমান চৌধুরী। এ সময় মেজর এম এ মঞ্জুর পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসেন এবং তাঁকে ৮ নম্বর সেক্টরের কমাণ্ডার নিযুক্ত করা হয়। এর আওতায় ছিলো কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী জেলা। পরে বরিশাল ও পটুয়াখালীকে এই সেক্টর থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেক্টরে সৈন্যসংখ্যা ছিলো ২ হাজার। গেরিলা ৭ হাজার। সাব-সেক্টর ছিলো ৭টি। সেক্টর হেডকোয়ার্টার ছিলো বেনাপোলে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া

 ৯ নম্বর সেক্টরঃ বরিশাল, পটুয়াখালী এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমাণ্ডার নিযুক্ত হন মেজর এম এ জলিল। সাব-সেক্টরের সংখ্যা ছিলো ৮টি। গেরিলা ছিলো প্রায় ১৫ হাজার। নিয়মিত সৈন্য ছিলো এক ব্যাটালিয়নের মত।

 ১০ নম্বর সেক্টরঃ এই সেক্টরের কোন আঞ্চলিক সীমানা ছিলো না। শুধু নৌ-বাহিনীর কামাােদের নিয়ে গঠিত এই সেক্টরের সদস্যদের শত্রুপক্ষের নৌ-যান ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হতো। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্নসংখ্যাক কমাণ্ডো নিয়ে এক-একটি গ্রুপ গঠিত হতো। যে সেক্টরের এলাকায় কমাণ্ডো অভিযান পরিচালিত হতো সেই এলাকার সেক্টর কমাণ্ডারের অধীনে থেকে কমাণ্ডোরা কাজ করতো। নৌ- অভিযান শেষ হওয়ার পর কমাণ্ডোরা আবার তাদের মূল সেক্টর অর্থাৎ ১০ নম্বর সেক্টরে ফিরে আসতো।