এই যুদ্ধে তাদের জয় সুনিশ্চিত। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য তাদের কত প্রাণ দিতে হবে এবং তাদের কত সম্পদ ধ্বংস হবে।”
৯ই এপ্রিল নেপালের ‘অর্পন’ পত্রিকা বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা করলো, “ইহা পাকিস্তানের ঘরোয়া ব্যাপার নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় আজ শুধুমাত্র কল্পনা নয়, একটি বাস্তব সত্য।”
১৩ই এপ্রিল তুরস্কের পত্রিকা ‘আকসাস’ লিখলো, “পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানীরা স্বাধীনতার যুদ্ধ লড়ছে।”
ইন্দোনেশিয়ার ‘জাকার্তা’ পত্রিকা ১৫ই এপ্রিল লিখলো, “পূর্ব পাকিস্তানীরা আর পাকিস্তানী নামে পরিচিত হইতে ইচ্ছুক নয়। তারা বাঙালী- এই পরিচয়ই গ্রহণ করেছে। কারণ আজ ‘পাকিস্তানী’ শব্দ দ্বারা তারা মনে করে একদল সৈন্য, যারা তাদের লোকজনকে নির্দয়ভাবে হত্যা করে।”
৩০শে মার্চ চিকাগো ট্রিবিউন লিখলো, “পৃথিবীর যে অংশটি একদিন ভিয়েতনামের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখর ছিল, সেই অংশে আজ শত-সহস্র লোককে মেশিনগানের গুলিতে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। ভিয়েতনামে গত ৪ বছরে যত লোককে হত্যা করা হয়নি তার চেয়েও অধিক লোককে মাত্র ৪ দিনে হত্যা করা হয়েছে।”
৭ই এপ্রিল ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা লিখলো, “পাকিস্তানী সেনাবাহিনী নির্বিচারে গণহত্যা করছে, চাক্ষুষ দর্শীর এই বিবরণ সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং নিরবতা মানুষের কাছে নিশ্চয় পীড়াদায়ক। বাংলাদশের এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধ প্রতিবাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চয় একটি মানবিক দায়িত্ব রয়েছে।
শুধুমাত্র এই কয়েকটি পত্রপত্রিকাই নয়, লণ্ডনের ডেইলি মেইল, ডেইলি টেলিগ্রাফ, New Statesman. Sunday Times. London- এর Time পত্রিকা, গার্ডিয়ান, Sunday Telegraph. Newsweek. Christian Monitor. Washington Post. Ockland Tribune. Bultimore Sun. Otowa Citizen. চিলির আলমারকিউরিও, ব্রসেলসের লা লিব্রা, জাপানের Time পত্রিকা, আরব রাষ্ট্র কুয়েতের আকবর-আল-কুয়েত, সিরিয়ার আল-তাউরা, রামিয়ার প্রাভদা, ইত্যাদি সমস্ত পত্রিকায় পৃথিবীর মানবতাকামী মানুষ ইয়াহিয়ার জল্লাদ বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানালেন, স্বাধীনতাকামী বাংলার মানুষকে জানালেন আন্তরিক সমর্থন।
হিমালয়ের ঘুম ভাঙলো। পাকিস্তানকে অস্ত্র সাহায্য দেবার বিরুদ্ধে আমেরিকার সিনেটে প্রতিবাদের ঝড় তুললেন সিনেটর কেনিডি। শ্রমিকরা পাকিস্তানী জাহাজে অস্ত্র বোঝাই করতে অস্বীকার করলেন। আমেরিকার বৈদেশিক সাহায্য কমিটি পাকিস্তানকে সর্বপ্রকার সাহায্য বন্ধ করার জন্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করলেন।
বৃটেন, ফ্রান্স, পাকিস্তানকে অস্ত্র সাহায্য প্রদান বন্ধ করার কথা ঘোষণা করলো। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কোসিগিন গণহত্যার নিন্দা করে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য দাবী জানালেন।
এবার বাংলাদেশর সপক্ষে এগিয়ে এলো উত্তর কোরিয়া ও উত্তর ভিয়েতনাম। সংগ্রামী উত্তর ভিয়েতনাম ঘোষণা করলোঃ “বাংলাদেশের যুদ্ধ জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ।” বাংলার মুক্তিযুদ্ধকে তারা পূর্ণ সমর্থন জানালেন—কিন্তু বিশ্বের দৃষ্টি নিবন্ধ রইল চীনের প্রতি। ইয়াহিয়া বারবার হ্রেষা ধ্বনি করছিলো, “চীন আমাদের সাথে”। চীনের কণ্ঠ নীরব। অবশেষে চীন মুখ খুললো ভুট্টোর চীন গমন উপলক্ষ ভোজসভায়। বিভ্রান্ত ইয়াহিয়ার বিশেষ দূত হিসাবে মানবতার ইতিহাসে অন্যতম জঘন্য অপরাধী ভুট্টো গিয়েছিলো চীনের সমর্থন আদায়ের জন্য।
ইয়াহিয়া এবং ভুট্টো চক্র মনে করেছিলো চীন তাদের কুকর্মকে সমর্থন জানাবে, কিন্তু চীনের অস্থায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেদিন প্রকৃতপক্ষ ইয়াহিয়া-ভুট্টোর মুখে চপেটাঘাত করলেন। ভোজসভায় চীনের অস্থায়ী