193 বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ পঞ্চম খন্ড
- সুদানের দৈনিক আল-সাহাফা’ পত্রিকার ৫ই এপ্রিল তারিখের এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়েছেঃ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকচক্র দ্বারা বঞ্চিত ও শোধিক হয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করে আসছে। পূর্ব বাংলার এই অভিযোগের কারণ হলো এইঃ
১। পাকিস্তানী সামরিক অফিসার ও সাধারণ সৈন্যদের শতকরা ৯০ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে নেয়া নেওয়া হয়েছে। ২। বেসামরিক সরকারী অফিসার পদে ৮০% পশ্চিম পাকিস্তানীদের থেকে নিয়োগ করা হয়েছে। ৩। পাকিস্তানের বার্ষিক আয়ের শতকরা ৭০ ভাগ ব্যয় হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। ৪। রপ্তানিজাত আয়ের ৮০% ব্যয় হয় পশ্চিম পাকিস্তানে আর মাত্রা ২০% ব্যয় হয় পূর্ব বাংলায়। এ সকল কারণেই পূর্ব বাংলার মানুষ নিজেদেরকে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকচক্র দ্বারা শোষিত ও নির্যাতিত মনে করেছে। বর্তমানে পাকিস্তানের জনগণের মাথাপিছু আয় বেড়েছে পূর্ব বাংলার ১৭% আর পশ্চিম পাকিস্তানে ৪২%। পূর্ব বাংলার অধিকার সচেতন মানুষের কাছে এখন এ বিষয়টি একেবারে খোলাসা হয়ে গেছে যে, বাংলাদেশের উৎপাদিত পাট, চা ও চাউল বিদেশে রপ্তানী করে যে আয় পাকিস্তানের হয়, তা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নতির জন্যই ব্যয় করা হয়। এ কারণেই পশ্চিম পাকিস্তানী পুঁজিপতিরা পূর্ববাংলার মানুষের কাছে তাদের সম্পদের শোষক ও বঞ্চনাকারী হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। এ প্রসঙ্গে একথাও উল্লেখযোগ্য যে পূর্ব বাংলার মানুষের টাকা দিয়ে রাওয়ালপিণ্ডিতে যে রাজধানী গড়া হলো হলো তাতেও খরচ করা হয়েছে ৫শ কোটি টাকা। এ সকল ন্যায্য কারণেই পূর্ববাংলা স্বায়ত্তশাসন চেয়েছে। * আফগানিস্তানের দৈনিক আফগান মিল্লাত’-এর এক প্রবন্ধে বলা হয়েছেঃ পশ্চিম পাকিস্তানী একচেটিয়া পুঁজিবাদী এবং ফৌজী নেতারা এ অবস্থা দেখতে মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না যে পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা বাঙালীর হাতে যাক। এ কারণেই তারা জাতীয় পরিষদের বৈঠক বানচাল করতে সচেষ্ট ছিল। এবং পরিষদের অধিবেশন বসবার আগে একটা কিছু গোঁজামিল দিয়ে বাঙালী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমঝোতা করতে ফন্দি এটেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের একমাত্র ন্যাপপ্রধান ওয়ালী খানই এসব বেআইনী ও অবৈধ কার্যকলাপের প্রতিবাদ করেছেন। তার দাবি ছিল, যেকোনো সমস্যার সমাধানের পন্থা পরিষদের বৈঠকে বসেই স্থির করতে হবে। পশ্চিমা শাসকচক্র দেখলেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান শুধু পূর্ব বাংলাকে শোষণমুক্ত করতে চান না, একই সময়ে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য অনুন্নত ও বঞ্চিত প্রদেশগুলোকেও পুঁজিপতি ও সামরিক জান্তার শোষণ থেকে মুক্ত করতে চান। কাজেই ক্ষমতা হাতছাড়া হবার আশঙ্কায় ইয়াহিয়া খান, ভুটাে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবি নস্যাৎ করার জন্য আটলেন ভয়াবহ ষড়যন্ত্র-পূর্ব বাংলার এরা পাঠালেন সেনাবাহিনী।
- কুয়েতের দৈনিক আখবার আল-কুয়েত’-এর ৬ এপ্রিল তারিখের এক সম্পাকদীয় নিবন্ধে লেখা হয়েছেঃ
শেখ মুজিবুর রহমান দেশবাসীর কাছে এই ওয়াদা করেছিলেন যে, নির্বাচনের জয়লাভ করলে তার দল পূর্ব বাংলা জন্য স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করবেন। নির্বাচনের তার দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করলো। শেখ সাহেবের দাবি ছিল ন্যায্য, আইন-সঙ্গত এবং গঠনমূলক। তিনি চাইলেন গণতন্ত্র ও শাসনতান্ত্রিক উপায়ে লক্ষ্যে পৌছতে এবং দেশের সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে। কিন্তু ইয়াহিয়া খান পূর্ব বাংলায়