বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র (পঞ্চম খণ্ড).pdf/৫৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

523 বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্রঃ পঞ্চম খন্ড আমি টুকরো কাগজখানা পকেটে নিয়েছিলাম। তারপরই বেরিয়ে এসেছিলাম ডাক্তার আনোয়ারকে বিন্দুমাত্র সৌজন্য প্রদর্শন না করে। জেকস-এর সামনে এসেই খেয়াল হয়েছিল আমাদের গাড়ী নেই। এখন উপায়! উদ্ধার করেছিলেন ডাক্তার আনোয়ার- তিনিও আমাদের সঙ্গে সঙ্গে এসে গিয়েছিলেন, সঙ্গে ঘোষিকা হোসনে আরা। ডাক্তার আনোয়ার বলেছিলেনঃ কালুরঘাট যাবেন তো আসুন আমার গাড়ীতে। মাহবুব হাসানের মাথায় তখন অন্য চিন্তা। ট্রান্সমিটার ভবনে অবস্থানরত প্রকৌশলী বন্ধুরা তো তাদের শর্ত পূরণ ছাড়া সহযোগিতা দেবেন না। দেখা যাক আঞ্চলিক প্রকৌশলীকে বাধ্য করে এখান থেকে একটা টেলিফোন করিয়ে দেয়া যায় কিনা। আমরা আগ্রাবাদ কলোনীতে আঞ্চলিক প্রকৌশলীর বাসায় গিয়েছিলাম- তিনি প্রথমে ক্ষমা চেয়ে পরে চাপে পড়ে বলেছিলেনঃ আচ্ছা, আমি টেলিফোনে বলে দিচ্ছি, আপনারা যান। রাস্তায় ইতিমধ্যে কবি আবদুস সালাম আমাদের গাড়ীতে এসে উঠেছিলেন। বললেনঃ নাতী বেলাল, আমাকে তোদের সঙ্গে নিয়ে যা। আমি-এই-দেখ-একটা কথিকা লিখছি-দু’পাতা লেখা হয়ে গেছে, এটা প্রচার করবো। তুই দেখে দিস। মাহবুব হাসান বলেছিলেনঃ দেখুন, আর-ই সাহেব আসলে, ট্রান্সমিটারে আদৌ ফোন করবেন না। এদিকে বিনা পারমিশনে ওঁরা দুজন কাজ করবেন না। আমি বরং এক কাজ করি- আমি স্টেশন রোডে আওয়ামী লীগ অফিসে যাই। কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়েই এসে পড়বো। আপনারা এ গাড়ীতে যান। মাহবুব হাসান আর আমাদের সংগে যোগদান করতে পারেননি- শুধু দু’দিন পরে একবার টেলিফোনে যোগাযোগ করেছিলেন। কালুরঘাটগামী মোটর গাড়ীতে আমরা তখন ছ'জন- হোসনে আরা, ডাক্তার আনোয়ার, কবি আবদুস সালাম, কাসেম, ফারুক ও আমি ট্রান্সমিটার ভবনের গেটের কাছেই আমি একরকম লাফ দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে পরেছিলাম। কেননা, দেখতে পেয়েছিলাম, প্রকৌশলী বন্ধু দু’জন ততোক্ষণে বেরিয়ে এসে রিকশায় উঠেছেন। রিকশা আগলে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলাম-বলেছিলামঃ আর-ই সাহেব পারমিশন দিয়েছেন (?) এবং স্বেচ্ছাসেবকরাও এসে পড়বেন মাহবুব হাসানের সংগে। আপনারা দয়া করে চলে যাবেন না। ওরা বলেছিলেনঃ আর-ই সাহেবের সংগে আমাদের টেলিফোনে আলাপ হয়েছে, তিনি বলেছেন কিছু করলে নিজের দায়িত্বে করবেন। দেখুন, আমাদের চাকরি থাকবে না। ডাক্তার আনোয়ার সমস্যাটি উপলব্ধি করেছিলেন এবং দ্বিতীয় ও শেষবাবের মতো পরম আনুকূল্য দিয়েছিলেন। তিনি কাছাকাছি কোনো গ্রামীণ অস্থায়ী ছাউনী থেকে কয়েকজন সশস্ত্র জোয়ানকে নিয়ে এসে সাময়িকভাবে ট্রান্সমিটারে মোতায়েন করার উপস্থিত ব্যবস্থা করেছিলেন- বাধ্যবাধকতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রকৌশলী বন্ধুদের দেয়া একটি শর্ত পূরণ করা গিয়েছিল। কেন্দ্রের নাম ও প্রথম ঘোষণাপত্রটি আমি লিখেছিলাম ট্রান্সমিটার ভবনের অফিসকক্ষে বসে। এমন সময় টেলিফোন বেজে উঠেছিল। আমি ‘হ্যালো’ বলতেই ওদিক থেকে দ্রুত এবং চাপা কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিলঃ বেলাল সাহেব, দেরী করছেন কেন? এখন তো প্রায় সাড়ে সাতটা-যা পারেন প্রচার শুরু করুন। লোক এখন