পাতা:বাংলায় ভ্রমণ -দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ጋዕ: বাংলায় ভ্রমণ রাজ সরকারে সৈনিক বা পাইকের কাজ করিত। ঈস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বগড়ীর রাজা ছত্রসিংহকে রাজ্যচু্যত করিবার সঙ্গে সঙ্গে নাএকদিগের জায়গীর বাজেয়াপ্ত করেন। নাএকগণ ইহাতে বিশেষ ক্ষুব্ধ হইয়া আচলসিংহ নামক একজন সাহসী পুরুষের নেতৃত্বে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। তাহারা গভীর অরণ্য আশ্রয় করিয়া নিকটবর্তী অঞ্চলসমূহে একমাত্র ব্রাহ্মণ ব্যতীত অপর সকলের উপর ভীষণ অত্যাচার করিতে সুরু করে। ইহাই “বগড়ীর নাএক হাঙ্গামা " নামে পরিচিত। নাএকগণের উপদ্রবে মেদিনীপুর ও হুগলী জেলার বহুস্থান বিপন্ন হইয়া উঠে। পূবেবাক্ত গনগণির মাঠে তাহাদের সহিত বহুদিন ধরিয়া ব্রিটিশ সৈন্যের খণ্ডযুদ্ধ হইয়াছিল। প্রথম প্রথম ব্রিটিশ সৈন্য এই অরণ্যচারী জাতির সহিত যুদ্ধে ততটা সুবিধা করিতে পারে নাই, পরে বহু কামান একত্রে দাগিয় তাহারা নাএকদিগের সমস্ত আডডা ধবংস করে। এই যুদ্ধে বহু নাএক সৈন্য প্রাণত্যাগ করে ও অনেকে বন্দী হয়। নায়ক আচল সিংহ কিন্তু পলাইয়া চলিয়া যায়। পরে অচল সিংহ আর একদল নাএকসৈন্য লহয়৷ বগীদের দলে যোগ দেয় ও ব্রিটিশ অধিকৃত স্থানসমূহে ভীষণ অত্যাচার করিতে থাকে। প্রথমদিকে ব্রিটিশ সৈন্যগণ ইহার কোনই প্রতীকার করিতে পারে নাই। অবশেষে বগড়ীর রাজ্যচু্যত রাজা ছত্রসিংহের সাহায্যে অচলসিংহ ধৃত হয়। আচলসিংহের পরেও নাএকগণ আরও কিছুদিন ধরিয়া ইংরেজদিগের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছিল। অবশেষে ১৮১৬ খৃষ্টাব্দে তাহার সম্পূর্ণরূপে পরাজিত ও বিধবস্ত হয় । এই সময়ে প্রায় ২০০ নাএক যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয় ও ১৭ জন দলপতিকে প্রকাশ্যস্থানে ফাঁসি দেওয়া হয়। বিষ্ণুপুর—খড়গপুর জংশন হইতে ৫৩ মাইল দূর। ইহা বাঁকুড়া জেলার মহকুমা ও প্রাচীন মল্লভূম রাজ্যের রাজধানী। রঘুনাথ বা আদিমল্ল মল্লভূমরাজ্য ও মল্লরাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা । বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বৰ্দ্ধমান ও সাওতাল পরগণা জেলার কতকাংশ এবং ছোট নাগপুরের অধিত্যক ভূমির কতকাংশ লইয়া মল্লভূম রাজ্য গঠিত হইয়াছিল। প্রবাদ, সপ্তম শতাবদীতে তীৰ্থকামী কোন ক্ষত্রিয় রাজার মহিষী বৃন্দাবন হইতে শ্ৰীক্ষেত্রের পথে একটি পুত্র সস্তান প্রসব করার পর মৃত্যুমখে পতিত হন। পুত্রটি স্থানীয় কোন গৃহস্থ কর্তৃক লালিত পালিত হয়। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বালকের দেহে ক্ষত্রোচিত বলবীর্য্যের বিকাশ ঘটিতে থাকে এবং সে মল্লক্রীড়ায় অপরাজেয় হইয়া উঠে। এই বালকই উত্তরকালে ‘আদিমল্ল বা রঘুনাথ নামে পরিচিত হইয়াছিলেন। রঘুনাথ স্বীয় পরাক্রমবলে বহু সামন্ত রাজা ও সর্দারকে পরাস্ত করিয়া এক বিস্তীণ রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। এই রাজ্যই মল্লভূম নামে খ্যাত। ৬৯৫ খৃষ্টাব্দ হইতে মল্লাদ গণনা করা হয় । মল্লভূমের প্রথম রাজধানী ছিল প্রদ্যুমুপুরে । খৃষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীতে রঘুনাথ মল্লের উনবিংশ বংশধর জগৎমল্ল বিষ্ণুপুরের রাজধানী স্থানান্তরিত করেন । বহু শতাব্দী ধরিয়া মল্লরাজগণ বাংলার পশ্চিম সীমান্তে রাজত্ব করিয়াছিলেন। মুসলমান যুগেও বহুকাল ধরিয়া বিস্তৃত ভূখণ্ডে বিষ্ণুপুরের রাজারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন । জগৎমল্লের পর রামমল্লের সময়ে সেনাবাহিনীর রণনৈপুণ্যের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। শিবসিংহ মল্লের রাজত্বকালে বিষ্ণুপুরে ললিত কলার বিশেষত: সঙ্গীত সাধনার বিকাশ ঘটে । ধারীমল্লের পুত্র বীর হান্ধীরের সময়ে মল্লভূমরাজ্য উন্নতির চরমশিখরে আরোহণ করে। তিনি সেনাবাহিনীর ও দুর্গের পুনর্গঠন করেন এবং তাঁহারই সময়ে মল্লভূমে বৈষ্ণব ধর্মের বিস্তৃতি ঘটে । ১৫৬৫ খৃষ্টাব্দে বাংলার নবাব সোলেমান কররানীর পুত্র দায়ুদ খাঁ বিষ্ণুপুর আক্রমণ করেন, কিন্তু বীর হাম্বীরের হস্তে তাহাব পরাজয় ঘটে। দুর্গের পূর্বারে মৃত নবাব সৈন্যের এত শবদেহ জমিয়াছিল যে উহা “মুণ্ডমালাঘাট” चांथTांउं शञ्च । -