পাতা:বাংলায় ভ্রমণ -দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S&8 दां६लांग्न बंशध्नं নিৰ্মাণ করাইয়া দেন এবং একটি বৃহৎ পুষ্করিণী খনন করাইয়া তাহার নামানুসারে “লালবাধ’ নাম রাখেন। লালবাঈএর অনুরোধে রাজা ইসলাম ধৰ্ম্মগ্রহণ করিতে মনস্থ করিলে প্রধান মহিষী তাহাকে ডাকিয়া পাঠাইয়া মন্ত্রী গোপাল সিংহ প্রভূতির সহায়তায় তাহাকে হত্যা করান। লালবাঈকে লালবাধে ডুবাইয়া মারা হয়। অত:পর প্রধান মহিষী রাজার চিতায় আরোহণ করিয়া “সতী” হন । সেই জন্য লোকে তাঁহাকে ‘ পতিঘাতিনী সতী ’ নামে অভিহিত করে । লালবাঈ রাজ্যশুদ্ধ লোক সমেত রাজাকে যে স্থানে মুসলমানী খান খাওয়াইবার আয়োজন করিয়াছিলেন উহা আজিও * ভোজনতলা ’ নামে পরিচিত। . প্রাচীন কাল হইতেই বিষ্ণুপুর সঙ্গীত চচর্চার জন্য বিখ্যাত। “ বিষ্ণুপুরী পদ্ধতি ” নামক গানের ঢঙ্গ ভারতের সবর্বত্র সম্মানিত। সঙ্গীতাচাৰ্য্য যদুভট্ট ও রাধিক প্রসাদ গোস্বামী বিষ্ণুপুরের অধিবাসী ছিলেন। বিষ্ণুপুরের শাখার জিনিস, তুলসীর মালা, রেশমের শাড়ী, পাট ও তসরের কাপড়, পিতল কাসার বাসন এবং তামাক বিশেষ প্রসিদ্ধ। বিষ্ণুপুরের প্রায় ১২ মাইল পূবেৰ্ব অবস্থিত ময়নাপুর নামক গ্রামে রাঢ়ে ধৰ্ম্মপূজার প্রবর্তৃক রমাই পণ্ডিত “যাত্রাসিদ্ধি রায় ” নামে এক ধৰ্ম্মঠাকুর প্রতিষ্ঠা করেন। ময়নাপুরের প্রায় ৭ মাইল উত্তরে দ্বারকেশ্বর নদের ধারে চাপাতলা নামে যে ঘাট দৃষ্ট হয় উহা ধৰ্ম্মমঙ্গল গ্রন্থগুলিতে উল্লিখিত মহামুনি দুবর্বাসা, নারদ, কপিল প্রভৃতির তপস্যার স্থান এবং গুপ্তবারাণসী বলিয়া বর্ণিত “ চাপায়ের ঘাট”। রাজা রঘুনাথ মল্লের রাজত্বকালে কবি রমাই পণ্ডিত ধৰ্ম্ম পূজার মাহাত্ম্যসূচক প্রসিদ্ধ কাব্য “ শূন্যপুরাণ ” রচনা করেন। _ বাঁকুড়া—খড়গপুর জংশন হইতে ৭২ মাইল। জেলার সদর শহর বাঁকুড়ার উত্তরে গন্ধেশ্বরী নদী ও দক্ষিণে দ্বারকেশ্বর নদ প্রবাহিত। বাঁকুড়া পূবেৰ্ব মল্লভূম রাজ্যের অস্তগত ছিল। মল্লরাজগণের পতনের পর ১৮৮১ খৃষ্টাব্দে ইহা স্বতন্ত্র জেলা হইয়াছে। বাঁকুড়া শহরটি অপেক্ষাকৃত উচচ ভূখণ্ডের উপর অবস্থিত ও স্বাস্থ্যকর। এখানে খৃষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক পরিচালিত একটি প্রথম শ্রেণীর কলেজ, একটি মেডিকেল স্কুল ও একটি উচচ ইংরেজী বালিক বিদ্যালয় আছে। অল্পবয়স্ক কয়েদীগণের চরিত্র সংশোধনরে জন্য এখানে একটি “ বরস্টল জেল " আছে। এখান হইতে পিতলের বাসন, সুতা ও তসরের বস্ত্র, শাখার গহনা, হরিতকী ও বহেড়া প্রভৃতি নানা স্থানে রপ্তানি হয়। বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর শিব বা মণিমহাদেবের মন্দির একটি দ্রষ্টব্য বস্তু। বাঁকুড়া হইতে “বাঁকুড়া দামোদর নদ রেলপথ ” নামক একটি ছোট মাপের (ন্যারো গেজ) রেলপথে এই জেলার ও বৰ্দ্ধমান জেলার কয়েকটি স্থানে যাওয়া যায়। এখান হইতে অনেকগুলি বাস সাভিসও আছে। সোনামুখী—বঁকুড়া দামোদর নদ রেলপথে বাঁকুড়া হইতে ২৬ মাইল দূরে সোনামুখী একটি প্রসিদ্ধ স্থান। এখানে গালা প্রস্তুত হয় এবং এখানকার তসর কাপড়, লৌহনিৰ্ম্মিত দ্রব্যাদি ও মাটির জিনিস বিশেষ প্রসিদ্ধ। বাংলাদেশের আদি কথক গদাধর চক্রবর্তী, বিখ্যাত বৈষ্ণবসাধক মনোহর দাস ও ঠাকুর হরনাথ সোনামুখীর অধিবাসী ছিলেন। ঠাকুর হরনাথের পুরা নাম হরনাথ