পাতা:বাংলায় ভ্রমণ -দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


48 बां९लांग्न बम* চুচুড়ায় মণ্ডেশ্বরজীউ নামে এক প্রাচীন শিবলিঙ্গ আছেন। প্রথম ভারতীয় প্রভিকাউনসিলর সুপণ্ডিত সৈয়দ স্যর আমীরআলি চূড়ার অধিবাসী ছিলেন। ফোট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার অধ্যাপক “প্রতাপাদিত্য চরিত্র” প্রণেতা রামরাম বসু, স্বনামখ্যাত ভূদেবচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এবং “সাধারণী" সম্পাদক সাহিত্যাচাৰ্য্য অক্ষয়চন্দ্র সরকার চুঁচুড়ার অধিবাসী ছিলেন। চুচুড়া হইতে কয়েক মাইল পশ্চিমে দাদপুর গ্রাম এককালে চিকণ শিল্পের জন্য বিশেষ প্রসিদ্ধ ছিল। ইউরোপ ও আমেরিকার বহু পরিমানে চিকণ রপ্তানি হইত। হুগলী—হাওড়া হইতে ২৪ মাইল দূর। ইহা হুগলী জেলার সদর শহর। হুগলীর প্রাচীন ইতিহাস বিশেষ কিছ অবগত হওয়া যায় না। অনেকে অনুমান করেন যে গঙ্গাতীরবর্তী এই স্থানটিতে প্রচুর হোগলা বন ছিল বলিয়াই ইহার নাম হুগলী হইয়াছে। আবার কেহ কেহ বলেন পর্তুগীজগণ গোলাকে গোলিন বলিতেন এবং এই স্থানে অবস্থিত তাঁহাদের গোলাগঞ্জকে তাহার গোলিন নামে অভিহিত করিতেন বলিয়াই “হুগলী” নামের উৎপত্তি হইয়াছে। ভাগীরথীর তীরে যে কয়েকটি স্থানে পাশ্চাত্য জাতি উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিলেন তাহার মধ্যে হুগলীর সহিত তাঁহাদের সম্বন্ধ সবর্বাপেক্ষা পুরাতন এবং তাঁহাদের মধ্যে পর্তুগীজেরাই সবর্বপ্রথম প্রাচ্যে আগমন করিয়াছিলেন। ১৫৮০ খৃষ্টাব্দে তাহারা সম্রাট আকৃবরের অনুমতি লইয়া হুগলীতে একটি কুঠি স্থাপন করেন। পর্তুগীজ জলদস্থ্যগণের অত্যাচারের ফলে বাংলার তৎকালীন সামুদ্রিক বাণিজ্য নষ্ট হইয়া যায় এবং পর্তুগীজগণই উক্ত বাণিজ্যের অধিকারী হন। সামুদ্রিক বাণিজ্যের কল্যাণে হুগলীর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রাচীন বন্দর সপ্তগ্রামের অবনতি হয়। এইভাবে হুগলী তৎকালে প্রাচ্যের একটি প্রধান বন্দর হইয় উঠে। সম্রাট হইবার পূবেৰ্ব শাহজাহান বাংলায় আসিয়া দেশীয় লোকদের উপর পর্তুগীজগণের নানারূপ অত্যাচার দেখিয়া গিয়াছিলেন। সম্রট হইবার পর তিনি পর্তুগীজ দমনের জন্য সুবাদার কাসেম খাঁর নেতৃত্বে একদল মুঘল সৈন্য প্রেরণ করেন। এই সেনাবাহিনী প্রায় তিন চার মাস ধরিয়া হুগলী অবরোধ করিয়া থাকে এবং শ্রীরামপুরের নিকট ভাগীরথী বক্ষে একটি সেতুবন্ধন করে। পর্তুগীজগণ আত্মসমর্পণ না করায় মুঘল সৈন্য ব্যাণ্ডেলের পর্তুগীজ গির্জার সম্মুখের পরিখার জল সেচন করিয়া উহাতে বারুদ পুতিয়া অগ্নিসংযোগ করে এবং তৎফলে দুর্গপ্রাচীর কিয়দংশ উড়িয়া যায়। ভগ্নস্থানের মধ্য দিয়া মুঘল সৈন্য দুর্গমধ্যে প্রবেশ করে। এই যুদ্ধে প্রায় এক হাজার লোক নিহত ও চার হাজার পর্তুগীজ মুঘলহস্তে বন্দী হয়। দুই হাজার লোকপূর্ণ পর্তুগীজদিগের একখানি জাহাজ মুঘলহস্তে পড়িবার উপক্রম হইলে শক্রহস্তে পড়া অপেক্ষা মৃত্যুই বাঞ্ছনীয় মনে করিয়া জাহাজের অধ্যক্ষ বারুদে আগুন দিয়া জাহাজখানি উড়াইয়া দেন। অন্যান্য অনেক পর্তুগীজ জাহাজও এই পন্থী অবলম্বন করে। এই জাহাজ সকলের অগ্নিকাণ্ডের ফলে মুঘলনিৰ্ম্মিত সেতু দগ্ধ হইয়া যায়। পর্তুগীজগণের ৬৪ খানি বড় জাহাজ, ৫৭ খানি গ্রাব ও ২০০ মুলুপের মধ্যে মাত্র একখানি গ্রাব ও দুইখানি মুলুপ পলাইয়া গিয়া গোয়ায় পৌছিতে সক্ষম হয়। ইহা ১৬৩৯ খৃষ্টাব্দের ঘটনা। এই সময় হইতেই বাংলায় পর্তুগীজ প্রাধান্য চিরকালের জন্য নষ্ট হইয়া যায়। এই সময়েই সপ্তগ্রামের ফৌজদারী কাছারি ও সরকারী, কাৰ্য্যালয় হুগলীতে স্থানান্তরিত করা হয় এবং হুগলী বন্দরের উন্নতির সূত্রপাত হয়। -