পাতা:বাংলার ব্রত - অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

বাংলার ব্ৰত Sዓ দেবতা, বৃষ্টির দেবতা, এমন-কী মণ্ডুক পৰ্যন্ত। অন্যত্রতদের মধ্যেও এই সব দেবতা পৃথিবীর নানা স্থানে উপাসিত হচ্ছেন- কেবল ভিন্ন ভিন্ন নামে দেখি। যেমন বেদের ‘সূৰ্য” ইজিপ্তে ‘রা” অথবা “রাআ’, মেক্সিকোতে “রায়মী', বাংলায় 'রায়’ বা 'রাঈ”। বেদের অনেক দেবতাকেই আমরা অন্যত্রতদের মধ্যে খুঁজে পাব। নানা ঋতুর মধ্যে দিয়ে নানা সব ঘটনা মানুষের চিন্তাকে আকর্ষণ করেছে এবং এই সকল ঘটনার মূলে দেবতা অপদেবতা নানারকম কল্পনা করে নিয়ে তারা শস্যকামনায়, সৌভাগ্যকামনায় - এমনি নানা কামনা চরিতার্থ করবার জন্য ব্রত করছে কী আৰ্য কী অন্য ব্ৰত সৰ দলেই, এইটেই হল ব্ৰতের ठ९०ांखिद्ध हैडिश्iज । শাস্ত্রীয় ব্ৰতগুলির মধ্যে ভারতবর্ষের ব্ৰত-অনুষ্ঠানের, আর-এক পরিচ্ছেদ আমরা পড়তে পাই। লোকে আৰ্য্যধর্মের চরম এক-নিয়ন্তার নিষ্কাম উপাসনায় পৌঁছে হিন্দুধর্মের নানা দেবদেবী আবার স্বষ্টি করতে আরম্ভ করেছে, সেই প্ৰাচীন অবস্থায়, সেই অন্যত্রতদের সমান অবস্থায় আর-বার ফিরে যাচ্ছে মনের গতি । কেবল এইটুকু তফাত যে, এখানে অন্যত্রতদের দেবতাকে এবং সেই সেই দেবতার ব্ৰত-অনুষ্ঠানকে আর্যদের মতো সম্পূর্ণ উপেক্ষা না করে তাদের সম্পূর্ণ রূপান্তর ঘটাবার চেষ্টা চলেছে। হিন্দুধর্মের এই উদারতার পিছনে রয়েছে সম্পূর্ণ অনুদার ভাবটি-সবাই নিজের নিজের ধর্মাচরণ করতে থাকে এটা নয়, সবাই আসুক এক হিন্দুধর্মের মধ্যে ব্ৰাহ্মণপুরোহিতদের কবলে; এবং এরই জন্য শাস্ত্রের ছােচ সবটার উপরে বেড়াজালের মতো দেওয়া হচ্ছে। শাস্ত্র এবং শাস্ত্রকারেরাই এর সাক্ষ্য দিচ্ছেন ; যেমন ব্যাসদেব বলছেন -“দেশানুশিষ্টং কুলধৰ্মমগ্ৰং, সগোত্রধর্মং নহি সংত্যেজোচ্চ।” অর্থাৎ, ধর্মশাস্ত্ৰ অবিরোধী ; যে দেশব্যবহার সেইটেই প্ৰথম পালনীয়, কিন্তু সগোত্র ধর্মও পরিত্যাগ করা উচিত নয়। স্মার্তা রঘুনন্দন শুদ্ধিতত্ত্বে স্ত্রীলোকদের হিন্দু-অনুষ্ঠেয় কাৰ্যে অর্থাৎ যে যে কাৰ্য তারা ধর্মবোধে করে আসছে অথচ মুনিপ্রণীত কোনো বচন-প্রমাণে যে-সকল ব্যবহার ও ক্রিয়ার উল্লেখ পাওয়া যায় না তা “যোষিৎ ব্যবহারসিদ্ধ” বলে ধরেছেন । ܓ