পাতা:বাংলা শব্দতত্ত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর -দ্বিতীয় সংস্করণ.pdf/১০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


१२ শব্দতত্ত্ব সহিত উচ্চারণের সঙ্গতি নাই। ইংরেজ লেখে একরূপ, পড়ে অন্যরূপ। বাংলাতেও অপেক্ষাকৃত অল্পপরিমাণে বানানের সহিত উচ্চারণের পার্থক্য আছে, তাহা সহসা আমাদের মনে উদয় হয় না। “ব্যয়” শব্দের “ব্য” অব্যয় শব্দের “ব্য” এবং “ব্যতীত” শব্দের “ব্য” উচ্চারণে প্রভেদ আছে ; 'লেখা এবং ‘খেলা’ শব্দের একারের উচ্চারণ ভিন্নরূপ। "সস্তা” শব্দের দুই দস্তাসয়ের উচ্চারণ এক নহে। “শব্দ” শব্দের “শ” অক্ষরবত্তী অকার এবং “দ” অক্ষরবর্তী আকারে প্রভেদ আছে । এমন বিস্তর উদাহরণ দেওয়া যাইতে পারে । এই উচ্চারণবিকারগুলি অনেকস্থলেই নিয়মবদ্ধ, তাহা আমরা অন্যত্র আলোচনা করিয়াছি । বীম বলিতেছেন বাংলা স্বরবর্ণ অ কোথাও বা ইংরেজি "not” "rock” প্রভৃতি শব্দের স্বরের মতে, কোথাও বা "bone” শব্দের স্বরের ন্যায় উচ্চারিত হয় । স্থানভেদে আ স্বরের এইরূপ বিভিন্নত। বীম্স্ সাহেবের স্বদেশীয়গণ ধরিতে না পারিয়া বাংলা উচ্চারণকে অদ্ভূত করিয়া তোলেন । বাঙালী গরুকে গোরু উচ্চারণ করেন, ইংরাজ তাহাকে যথাপঠিত উচ্চারণ করিয়া থাকেন। কিন্তু যদি কোনো বাংলা ব্যাকরণে এই সাধারণ নিয়ম লিখিত থাকিত, যে ইকার, উকার, ক্ষ এবং ণ ও ন র পূৰ্ব্বে প্রায় সৰ্ব্বত্রই অকারের উচ্চারণ ওকারবৎ হইয়া যায় তাহা হইলে পশ্চিমবঙ্গপ্রচলিত উচ্চারণের আদর্শ র্তাহাদের পক্ষে সুগম হইতে পারিত ।