পাতা:বাখতিন - তপোধীর ভট্টাচার্য.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

দশকে মেডভেডেভ ও ভোলোশিনোভ মোটামুটি সামাজিক পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। কিন্তু সোভিয়েত সমাজের প্রবল বাত্যা-বিক্ষোভে সেইসব খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে। মেডভেডেভ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ১৯৩৮-এ মৃত্যুদণ্ড বরণ করেন আর ভোলোশিনোভ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৬-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাখতিনের প্রথম জীবনের বন্ধু এবং পরিবার-পরিজনের মধ্যে কেউই জীবিত নন। সত্তরের দশকে বাখতিন সম্বন্ধে অনুসন্ধিৎসা যখন প্রবল হয়ে ওঠে, গবেষকরা বহু চেষ্টা করেও কয়েকটি চিঠি ছাড়া বাখতিনের ডায়েরি বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথি খুঁজে পাননি। সেসময় কানায়েভ যদিও জীবিত ছিলেন, তাঁর কাছ থেকে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ কোনো সহযোগিতা পাননি। একমাত্র বাখতিনের শেষ জীবনের কিছু কিছু অন্তরঙ্গ জনের স্মৃতিচারণ ও ব্যক্তিগত রচনার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

তিন

এভাবে অনিবার্যভাবে ক্রমশ গাঢ়তর হয়েছে বাখতিন নামক কিংবদন্তির ছায়া। জীবন ও তত্ত্বকে যিনি নিরন্তর মেশাবার চেষ্টা করে গেছেন, তাঁর জীবনের তাৎপর্যকে আজ বুঝতে হবে তাঁরই প্রস্তাবিত তত্ত্বের আলোয় এবং ঠিক একই ভাবে তাঁর তত্ত্বের উপযোগিতা সমর্থন করার সূত্র খুঁজতে হবে তাঁরই জীবনের বহুস্বরন্যাসে। জীবনকে যিনি সত্যের নিরন্তর দ্বিবাচনিক অভিব্যক্তি বলে জানেন, প্রতিটি উচ্চারণকে জানেন সামাজিক কণ্ঠস্বরের প্রকাশ হিসেবে, প্রতিটি সত্তাকে যিনি বিশ্বাস করেন অপর কোনো সত্তার সহযোগী বলে এবং লেখকের লিখন-প্রক্রিয়াকেও যিনি সমবায়ী অস্তিত্বের অভিব্যক্তি হিসেবে মনে করেন—ভোলোশিনোভ বা মেডভেডেভের লেখক-সত্তাকে সহযোগী হিসেবে পাওয়াকে তিনিই মর্যাদা দিতে পারেন নিজেকে প্রচ্ছন্ন রেখে। ইউরোপীয় তাত্ত্বিকেরা যদিও স্ট্যালিনের আমলের নিপীড়নকে এই আত্মগোপনের জন্যে প্রধানত দায়ী ভেবেছেন, বাখতিনের সমগ্র জীবনের বার্তাকে মনে রাখলে একথা মানা যায় না। সত্তা ও অপরতার দ্বিবাচনিক সম্পর্ক বাখতিনের কাছে স্বতঃসিদ্ধ—কী জীবনে কী মননে কী অভিব্যক্তিতে। দ্বিতীয়ত, যাঁরা মেডভেডেভ ও ভোলোশিনোভের রচনায় মার্ক্সীয় চিন্তার স্পষ্ট প্রকাশ লক্ষ করে অস্বস্তি বোধ করেন এবং বাখতিনের তত্ত্ব-বিশ্বের সঙ্গে ঐ চিত্তার সম্পর্কহীনতা প্রমাণ করতে চান—এর পেছনে প্রধানত তাঁদের প্রতিভাবাদর্শগত অবস্থানই সক্রিয়। বাখতিনের জীবনব্যাপী সন্ধানকে যদি তাঁরই পরিভাষা অনুযায়ী নির্মিতি-বিজ্ঞানের প্রামাণিক অভিব্যক্তি হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে তাঁর চিন্তার সামগ্রিক আকল্পে এমনকি আপাতদৃষ্টিতে পরস্পর-বিপরীত ভাবনার সহাবস্থানও গ্রাহ্য হয়ে ওঠে। পরবর্তী আলোচনায় যাওয়ার আগে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত বাখতিনের জীবনব্যাপী সন্ধানের সম্ভারের প্রতি দৃষ্টি ফেরানো যেতে পারে। নিচের ঐ তালিকা থেকে বাহ্যত যে-বিপ্রতীপের সমাহার স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তারই মধ্যে নিহিত রয়েছে যেন বাখতিনের অন্যতম মহাসূত্রের প্রতি সমর্থন: চূড়ান্ত বিন্দু বলে কিছু জীবনে। মৃত্যু আসলে নেই জীবনের বহমান দ্বিবাচনিক প্রক্রিয়াকেই সমর্থন করে।

ক. বাখতিনের স্বনামে প্রকাশিত রচনা::1. Art and Answerability: Early Philosophical Essays (trans V

৩২