পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/১৬৭

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিল্পীর ক্রিয়াকাণ্ড ᎼᏬᎼ ভারক্ট লিখিত হিসেব । শিল্পকম এল নানা ক্রিয় ধরে’, শাস্ত্র লেখা হ’ল সেন্ট ক্রিয়ার লক্ষণাদি ধরে । ধর্মপ্রচার পূজা ইত্যাদি সুবিধার জন্য শাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা মতে ক্রিয়া করে মানুষ যে যুগে প্রতিমা তাদের বাহন তাদের স্থাপন করতে মন্দিরাদি গড়ছে—সেটা অনেক পরের কথা । তার অনেক আগে মানুষ হাত তৈরি করেছে পাথর কেটে গড় লাইন টেনে জাকার প্রক্রিয়ায়। শিল্পত্ৰত আচরণ করতে অনেক পাক হ’য়ে উঠেছে মানুষ যখন, তখন দেখি তার হাতের কৌশল পায়ের কৌশল এমন কি স্তার শিল্পবুদ্ধিও স্ব-ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সে লাগিয়েছে শাস্ত্ৰ মতে ধমবিশেষের নয় তো রাজা বাদশার ভাবেদারিতে। ধর্মপ্রচারের ইতিহাস দেখায়, আমাদের মূৰ্তিশিল্প কেমন করে এক ধর্ম থেকে আর এক পূমের সম্পর্কে এসে রূপ বদলে নিচ্ছে এবং আস্তে আস্তে ধম প্রচারের পথ ধরে বিদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সেখানকার মূৰ্তিশিল্পের সঙ্গে বোঝাপড় অদল-বদল ক্রিয় ধরে নতুন নতুন সমস্ত রূপের স্বজন করছে । বৌদ্ধদের ত্রয়স্ত্রিংশ লোকের অধিবাসীরা হিন্দুদের তেত্রিশকোটীতে এসে পরিণত হ’ল, কি ভাবে নানা লৌকিক দেবদেবী এসে ঢুকে পড়লো দেশবিদেশ থেকে ভারতীয় দেবসভায়—সে এক বিচিত্র মহাভারতের বিচিত্র ইতিহাস । আবার দিক্ বিজয়ের দিক দিয়ে নানা দেশে লোকশিল্প সমস্তের যাতায়াত ও শিল্পক্রিয়া-প্রক্রিয়ার আদান-প্রদান—তারও ইতিহাস বড় ছোটখাটো নয় । আমাদের শিল্প ব্যাপারে এই আমদানি রপ্তানির খাত। পূরে লেখা হয়নি এখনো । শিল্পশাস্ত্র বলে যে পুথি রয়েছে আমাদের তার মধ্য থেকে একটু একটু আভাষ পাই মূর্তিশিল্পকে কেমন করে এক ধৰ্ম্ম থেকে জোর করে আর এক ধমের দাসত্বের কায়ে লাগানো হচ্ছে-—“সলক্ষণং মৰ্ত্ত্যবিম্বম্ ন হি শ্রেয়স্করং সদা” । শিল্পশাস্ত্রের একথা থেকে বেশ বোঝা যায়—মুলক্ষণযুক্ত বুদ্ধমূর্তিকে চিরকালের মতো চেপে দিতে চেষ্ট হচ্ছে এবং বুদ্ধের ধ্যান উড়িয়ে অন্য দেবতার ধ্যান লেখা হচ্ছে । এই ভাবে ধমের ঘাত-প্রতিঘাত বিজিত ও বিজেতার ঘাত-প্রতিঘাত ও দেশ বিদেশের সংমিশ্রণে ভারত-শিল্পের ক্রিয়া-প্রক্রিয়। যেভাবে হ’য়ে চলেছে তার ইতিহাস শিল্পের উপরে ছাপ রেখে গেছে আপনার । ক্রিয় ধরেই মানুষ বড় হয়েছে, নতুন নতুন সত্য আবিষ্কার O. P. 14–21