পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৪
বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী

has subsided, and our picture galleries would be full of sketches.”

 ছবির বেলাতে যে কথা কবির বেলাতেও ঐ কথা, গায়ক বাদক পাচক চালক নর্তক সবার বেলাতেই এই একই কথা। হাত উঠছে পড়ছে—ঠিক রঙএ ঠিক রঙ মিলিয়ে তালে তালে—এতে একটা আনন্দ বোধ করে শরীর ও মন আর্টিষ্টের। নেচে যে আনন্দ বোধ করে না সে নাচতেই পারে না ভাল করে’। মন চল্লো দুলে শরীর চল্লো তালে তালে, শরীর-মনের এই যে আনন্দের মিলন এই হ’ল আর্টের প্রকরণের চরম সাধনা। Sketch যেমন সম্পূর্ণ ছবি নয়, নিরানন্দ প্রকরণও তেমনি পরিপূর্ণ নয় অসম্পূর্ণ। Sketch যেখানে খসড়া মাত্র দিয়ে খালাস সেখানে তার মধ্যে শুধু তাড়া থাকে, একটা দৃশ্য কি একটি জিনিস তাড়াতাড়ি কাগজে উঠিয়ে কিম্বা বলে' দিয়েই খালাস। এই ভাবের sketchগুলি স্কুলে ছেলের নোট বই যে কায দেয় ঠিক সেই কাজই দেয়। এই sketch আর্টিষ্টের কাযে লাগে ব্যাপারটা শুধু মনে পড়িয়ে দিতে; ফটোগ্রাফও অনেক সময় এ কার্যটা সহজে সম্পন্ন করে কিন্তু যে sketch করার মধ্যে আর্টিষ্টের আনন্দ ধরা থাকে তার ধরন স্বতন্ত্র। ছোট গল্পের মত ছোট ও সামান্য হ’লেও সেটা সম্পূর্ণ জিনিস এবং সেটা লিখতে অনেকখানি art চাই। ছোট হ’লেই ছোট গল্প হয় না, একটুখানি টান দিয়ে অনেকখানি বলা বা বেশ করে কিছু ফলিয়ে বলার কৌশল শক্ত ব্যাপার। আর্টিষ্ট কেন সে শ্রম স্বীকার করতে চায় তার একমাত্র কারণ বলবার এই যে, নানা কারিগরি—তাতে আনন্দ আছে। ফস্ করে' বলা হ’য়ে গেল, যেমন তেমন করে' বলা হ’য়ে গেল, এতে আর্টিষ্টের আনন্দ নেই। মৃগয়া করতে গিয়ে যদি মৃগ এসে আপনিই ধরা দিলে তো শিকারীর আনন্দ একটুও হ’লনা; যারা সঙ্গের সাধারণ লোক তারাই বিনা পরিশ্রমে পড়ে' পাওয়া মৃগমাংস পেট ভরে' খেয়ে আনন্দ করলে। শিকারী তেমন জিনিস পরিবেশন করে সুখ পায় না যা বিনা ফাঁদে ধরা হ’ল। সঙ্গীতের চিত্রের কাব্যের সব শিল্পেরই প্রকরণের দিকটায় খাটুনী আছে—ভাব ও রসকে ফাঁদে ধরার ছাঁদে বাঁধার খাটুনী। কিন্তু সে কলের মত খাটুনী নয়, কলের কুলীর মত নিরানন্দ খাটুনী নয়। শিশু লালন-পালনের মধ্যে দুঃখ ও খাটুনীর দিক