পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/১৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৭
শিল্পের ক্রিয়া প্রক্রিয়ার ভাল মন্দ

consummate technique in order to hide what one knows.... The great difficulty and crown of art is to draw, to paint, to write with ease and simplicity.”(–Rodin.) এখানে কাযের সারল্য ও স্বতঃস্ফূর্তির কথা বলা হ’ল এবং এই দুই গুণ যাতে পৌছোয় কাযে সেই consummate technique বা পরিপূর্ণভাবে প্রকরণের দখলের কথা বলা হ’ল। প্রকরণের সার্থকতা তখনি যখন সেটা নিয়ে সহজভাবে আমরা কায করে' যাই, সেখানে প্রকরণ কাযের শ্রান্তি ব্যক্ত না করে’ স্ফূর্তিটাই দেখায়। কিরকম ছন্দ কসে' বাঁধা হ’ল, কত মাথা ঘামিয়ে গানের সুরটা এবং গানটা লেখায় ধরা হ’ল,—এইটেই যে লেখায় রইলো, বড় লেখা হ’লেও সেটা artistic হ’ল না; কেননা তার মধ্যে লেখার প্রকরণের শুকনো দিকটাই রয়েছে, আর যেখানে যতন এসে আনন্দ এসে প্রকরণের কঠোরতা কর্কশতা মিটিয়ে দিয়ে ভাবের এবং লাবণ্যের প্রসন্নতা প্রকাশ করলে সেখানে ছোট হ’লেও সেটি হ’ল আর্ট। প্রকরণে পূর্ণ অধিকার না হ’লে লেখায় বলায় চলায় কাযে কর্মে স্বতঃস্ফূর্তি গুণটি আসে না, অথচ এই গুণটি সমস্ত বড় শিল্পের একটা বিশেষ লক্ষণ। এত সহজে কেমন করে' আর্টিষ্ট যা বলবার যা দেখাবার তা প্রকাশ করে' গেল এইটেই প্রথম লক্ষ্য করে আমাদের মন বড় শিল্পীর কাযে। শিল্পী কি কঠিন প্রক্রিয়ায় রচনা করেছে তা তো রচনায় রেখে দেয় না, মুছে দিয়ে চলে যায় তার হিসাব, এবং এই কারণে ঠিক সেই কার্যটি নকল করতে চাইলে আমরা ঠকে যাই ঠেকে যাই, হদিস পাইনে কি কি উপায়ে কোন পথ ধরে গিয়ে শিল্পী তার পরশমণি আবিষ্কার করে' নিলে। সুতরাং বলতে হবে একজনের technique অন্যের অধিকারে কিছুতেই আসতে পারে না, সে চেষ্টা করাই ভুল, কেননা তাতে করে' চেষ্টা কাযের ওপরে আপনার সুস্পষ্ট ছাপ দিয়ে যায় এবং আর্টিষ্টের কাজে সেই ব্যর্থ চেষ্টার দুঃখটাই বর্তমান থেকে যায়। যে দেখে তাকে পর্যন্ত পীড়া দিতে থাকে।

 বাঁশী বীণা এ সব তৈরী করার প্রকরণ যেমন স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র, তেমনি এদের বাজানোর প্রকরণও আলাদা আলাদা। বাঁশীর ফুটো ছেড়ে ছেড়ে সুর বার করতে হয়, বীণাতে তারে তারে ঘা দিয়ে ঘাটের পর ঘাট চেপে সুর বার করতে হয়। সাতটা সুর তার ওপর এবং তার মাঝে মাঝে আঙ্গুল খেলিয়ে বেড়ালে। এই তো বাজনার প্রকরণ সামান্য রয়েছে এবং

O. P. 14—23