পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/২০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১৯৫
শিল্পবৃত্তি

নানা রঙএর আঁাজী টানে তখন কোন রঙএর পাশে কোন রঙ মানায় তার একটা হিসেব ধরে চলে, কিন্তু এই রঙ এই ভাব জাগায় এ জ্ঞান তার নেই, সেটা হয় যখন র্তাতি কেবল র্তাতি নেই শিল্পীও হয়ে উঠেছে । মেয়ের কথা বোনে, আমাদের চেয়ে ভাল জানে তার কাথার কোথায় কোন সূতে। কোন ফুল কোন পাড় দিতে হবে ; রঙএর প্রবৃত্তি রেখার প্রবৃত্ত্বি তাদের ঠিক পথে চালায় কিন্তু একট কাথার কায এক ভাব জাগায়, অন্তটা অন্ত ভাব, এক রঙ জাগায় বৈরাগ্য অন্য রঙ জাগায় অনুরাগ ; এক রেখা করে ঢল ঢল, এক রেখা চলে ছল ছল—এসব কথা হ’ল শিল্পীর । শিল্পীর কৈশোর ও যৌবনের কথা হ’ল ভাবযুক্ত শিল্প, এ সময়ে লোকে শাল বুনলে—কাশ্মীরের পদ্ম-সরোবর আপনাকে ধরা দিলে একটুখানি কলকার কাযের মধ্যে। ঠিক যে ভাবে কবির একটি ছত্রে ধরা গেল বিশ্বের বিরাট রহস্য, সেই ভাবে এক টুকরো পাথর সেও রহস্যময় ভাবময় হ’য়ে জীবন্ত হ’য়ে উঠলে, অন্তরের স্বাদ দিতে থাকলে । শৈশবের প্রবৃত্তি প্রবল প্রবাহ নিয়ে শিল্পকে ঝরিয়ে দিলে পৃথিবীর দিকে যেখানে মাটির ঘরে মানুষ বাস করছে, কৈশোরের প্রবৃত্তিরূপ শিল্প ঘর বার তুয়ের মধ্যে আনাগোনা করতে থাকলে । “শৈশব যৌবন দুহু এক ভেল ।” যৌবনে শিল্পের অভিসার, মনের সমস্ত প্রবৃত্তি নিয়ে দুঃখের মধ্য দিয়ে সুখের মধ্য দিয়ে অনন্ত রসের দিকে শিল্প-ধারা শতমুখী হয়ে চলেছে সাগর সঙ্গমের পথে— “নব অনুরাগিণী রাধা কছু নাহি মানয়ে বাধা একলি করল পয়াণ পন্থ বিপন্থ নাহি মান ।” প্রথম যৌবনে যখন শিল্পের অভিসার পথে বিপথে তখনকার ইতিহাস বড় জটিল, বড় রহস্যময়, বড় অস্থির—তখন শিল্প নিজেকে হারিয়েছে পরের জন্য, নিজের ঘরে আর থাকতে পারছে না শিল্প, পূবের আলো পশ্চিম মুখে হ’য়ে চলেছে দিবাভিসারে আবার পশ্চিমের আলে। রাত্রির অন্ধকারের মধ্য দিয়ে তিমিরাভিসারে চলেছে পূবের আলোর সঙ্গে মিলতে ; এই ভাবের অবস্থা শিল্পের—নৈহরর্ব হমকো নহি ভাবে (কবীর ) । নতুনের বঁাশী শুনেছে শিল্প, বাপের বাড়ীর খেলাঘর আর ভাল লাগছে না। আকবর বাদশাহের সময়কার শিল্পে এর সুস্পষ্ট আভাষ দেখা যায় ; ভারত শিল্প মিলতে চলেছে মোগল শিল্পে, খাটি