পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১৯৯
শিল্পবৃত্তি

দেশের ও বিদেশের শিল্পে ও মনোভাৰে । এক প্রাচ্য জাতি আর এক প্রাচ্য জাতির সঙ্গে মিল্লো, দেখতে দেখতে সার্থক হ’ল সে মিলন, নতুন জাতের শিল্পকলা নতুন ফুলের মতো দেখা দিলে। পূব পশ্চিম যখন মিল্লে। তখন বিজেতা ও বিজিত, দাসী ও প্ৰভু কেবল এই সম্পর্কটক নিয়ে মিল্লেী, দুজনে পাশাপাশি রইলো বটে কিন্তু ইডেন গার্ডেন ও বিডেন গার্ডেনে রইলো আকাশ পাতাল প্রভেদ। চৌরঙ্গ রইলো নিজের রঙ্গে, চিৎপুর রইলো চিৎপাৎ বাঁশের খাটিয়াতে : এ ভাবে দুই জাতির বাইরে বাইরে মিলনে শিল্পের উৎপত্তি হতেই পারে না। মালা অদল-বদল হ’ল মোগলের সঙ্গে রাজপুতের, পরদেশীর সঙ্গে স্বদেশীর গান্ধৰ্ব মতেউৎপত্তি হ’ল তা থেকে ভারত সঙ্গীত-কলার নতুন ধারা ( রাখী বাধা হ’ল হাতে হাতে রাজায় প্রজায় এক সভ্যতায়, জন্ম নিলে কল্পনাতীত সুন্দরী কলাসমস্ত। এই ঘটনা মোগল আমলে নয়, তার পূর্বে ; তারও পূর্বে কতবার ঘটেছে, কতবার কতদিক দিক দিয়ে মিলন হয়েছে আর্যে অনার্যে, সমতলবাসীর সঙ্গে পর্বতবাসীর, সমুদ্রের এপারের রাজার সঙ্গে সমুদ্রের ওপারের রাণীর । আমাদের ধমের ইতিহাস, কমের ইতিহাস, শিল্পের ইতিহাস এই সার্থক মিলনের চিহ্নে ভরা রয়েছে । তখনকার কালে উপনিবেশ অভিযান যা হয়েছিল তার শেষ হয়েছিল গিয়ে জাতিতে জাতিতে সত্য পরিণয়-সূত্রে বাধা পড়ায় । এষ্ট নিয়মের ব্যতিক্রমও হয়েছে কতবার——গ্রীস এল কিন্তু দেশের ঘরে তার বরের আসন পড়ল না, নাদির শী এল ডাকাতি করে চলে গেল, গ্রীস থাত কাটলে বিজাতীয় প্রথায়, সে খাতে শিল্পের ধারা বইলো না ; নাদির শী বানের মতো এল ঘরের জল বার করে নিয়ে গেল, রেখে গেল ন কিছু শূন্ত ভাণ্ড ছাড়া, বর্গি এলো বাংলায় শুধু চৌথষ্ট আদায় করলে, দিয়ে গেল না কিছু খাজনা দেবার ভাবনা ছাড়া,—“বগি এল দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে !” কিন্তু নবাব এলেন ঢাকায় মুর্শিদাবাদে শুধু রাজত্ব করতে নয় ঢাকাই কাপড় বালুচরের সাড়ী এমনি কত কি নিজেরা পরতে এবং দেশকে পরাতে ; বরের আসার ধূমধামে হাতী ঘোড়ার চাপে দু’চারটে মন্দির ভাঙলো, ঘরও উজাড় হ’ল, কিন্তু শেষ হ’ল গিয়ে শিল্পকলার ছাদনাতলায় সমস্ত ব্যাপারটা ! এখন তো কত বুদ্ধমূর্তি চালান যাচ্ছে এদেশ থেকে ইউরোপের