পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২২২
বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী

স্বতন্ত্রভাবে দেখাচ্ছে কিন্তু যখন রসের দিক দিয়ে দেখি তখন বিষয়ের উচ্চ নীচ চালের রকম সকম দিয়ে এতে ওতে যে ভিন্নতা তার হিসেবের খাতার দরকারই হয় না—বীণা বাজছে, কি পিয়ানো, না বঁাশী, বিলাতী সুর বাজছে, না দেশী বাউল, ন দরবারি এটা ভুল হয়ে যায়। রসটি পাওয়াই হ’ল আসল কায কাব্যে শিল্পে সঙ্গীতে এবং মানব-জীবনে। এই যে রসের প্রাধান্ত এই নিয়ে জগতের তাবৎ শিল্প এক, এই নিয়ে যা শিল্প এবং যা শিল্প নয় তা যে সম্পূর্ণ আলাদা তাও প্রমাণিত হয় রসিকদের কাছে ; এবং এই নিয়ে দেবশিল্প (Nature) ও মানবশিল্প (Art) দুই নয়, এক—এও বলেন তারা । ফুলের, যেমন পরিমল শিল্পের তেমনি রস। ফুলটি কোন জাতীয়, তার রূপ কেমন, সেটি বড় না ছোট, এ জ্ঞান এক ফুলে অন্ত ফুলে পার্থক্য জানায়, ফুলের পরিমলটুকু সেও জানায় কি ফুলের বাস পাচ্ছি, কিন্তু এই সব ব্যাপারের বাইরের জিনিষ হ’ল ফুল দেখে এবং পরিমল পেয়ে মন মাতলে যখন তখন যে অনির্বচনীয় বস্তুটি পাই সব ফুল থেকেই সেই বস্তু ; সেই একমাত্র বস্তু নিয়ে রসিকের রসচর্চা চলে । বীণার কটা তার কটা ঘাট এবং বীণাতে যা বাজছে তার স্বরগ্রামের শ্রুতির সূক্ষ্মানুসূক্ষ্ম বিভাগ-জ্ঞান নিয়ে রসভোগ তো বর্ধিত হয় না, বীণা বাধার কৌশল সেটা বাজাবার কৌশল যখন আপনাকে হারিয়ে দিলে রসের তলায়, জানলেম বীণা যথার্থ ভালো বাজলে গানও ঠিক হ'ল ; কিন্তু বীণা যেখানে আপনার খুটিনাটি খটখটি দিয়ে প্রমাণ করতে থাকলে আমি রুদ্রবীণ আমি সরস্বতী-বীণ আমি শ্রুতিবীণ, কিংবা কালোয়াত যেখানে প্রকাশ করতে থাকলে আমি দক্ষিণী চাল আমি নারদ আমি বিলাতি কিছু, সেখানে গান শুনে আনন্দ নেই গানের ভঙ্গি দেখে আনন্দ, সঙ্গীত-শাস্ত্রের কথকতা শুনে আনন্দের মতো আনন্দ । কার্যেই দেখা যাচ্ছে যে, জাতির সঙ্গে জাতীয় শিল্পের জ্ঞান এক জাতিগত প্রথা ধরে দেখা, জাতি থেকে আলাদা করে নিয়ে শুধু তার কারিগরি ও শিল্প হিসেবে দেখা, এবং রসের বিচার করে দেখা— এই তিন রকম দেখার পথ। যারা পড়ে’ শুনে শিল্পকে জানতে চায় তারা চলে প্রথম পথে, কারিগর শিল্পী এরা চলে দ্বিতীয় পথে, এর কাযের বাহাঙ্কুরি দেখে, এবং রসিক তার চলে শেষের পথ ধরে শিল্পকাজের