পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/৩৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


 

সাদৃশ্য

এক পাটি জুতো দু'পাটি জুতে, একটা ফুল হটে ফুল, অমুক মানুষ, ঐ জানোয়ার—এই হিসেবে যতক্ষণ খালি রূপ চেন চলেছে ততক্ষণ সাদৃশু উপমা ইত্যাদি ব্যাপারের কথাই উঠচে না । নিত্যকার দেখা, সাধারণ দেখা, কাজ-চল হিসেবে দেখা—এর মধ্যে ভেবে দেখা ফলিয়ে বলা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কমিয়ে বাড়িয়ে বলার অবসরই নেই—যেটা য। তারই জ্ঞান এই পর্যন্ত হ’ল । ভবিরাজত্বে যখন পৌছে গেল রূপ, তখন সাদৃশু উপমা ধরে রূপ পাল্টাপাল্টি ভাব পাল্টাপাণ্টি চল্লো । ইংরাজীতে যাকে বলে Likeness বা একটার মত আর একটা, তার দেখা পাই কৃষ্ণনগরের পুতুলে, পোট্রেট পেন্টিংএ । একজোড়া কানের দুল হাতের বালা পায়ের নূপুর এ ওর সদৃশ, এবং অনুরূপ সাদৃশ্ব । কিন্তু একটা সোনার ঝুমকো সে গাছের ঝুমকো ফুলের অনুরূপ না হয়েও ফুলের সদৃশ শোভা পেলে। এমনি আবার মুক্তার হার কি হীরার কণ্ঠীতে নানা বিসদৃশ জিনিষ গাথা পড়ে’ হ’ল একটা একটা ফুল কি ফুলের মালা, কিংবা আকাশের তারকাপুঞ্জের সদৃশ। মুক্তার ছল জানালে, রত্বের টুকরো জানালে—তারা কেউ ইন্দ্ৰধন্থর থেকে ঝরে পড়া ফুলের রেণু, কেউ বা চোখের জল এমনি কত কী উপমা ও সাদৃশু মনে পড়ালে। অলঙ্কার-শিল্পের মূলে হ’ল সদৃশকরণের নানা কৌশল। + যখন আমরা দেখি ছবিটা এমন হ’ল যে, ভ্রম হ’ল ঠিক মানুষটি দেখছি, তখনই বলে ফেলি—বা চমৎকার সাদৃশ্য হয়েছে। আবার মানুষকেও দেখে বলি—বাঃ চেহারাটি যেন ছবিখানি । “করিতেছি ছায়া দরশন যেন কোন মায়ার রচন, কাচেতে কনক কাস্তি চিত্ররূপে হয় ভ্রাস্তি— মোহিনী মূরতি বিমোহন।” এখানে আসল মানুষকে যেমনি ভুল হচ্ছে ছবি বলে অমনি সঙ্গে সঙ্গে ভুল ভেঙেও যাচ্ছে। চোখের পলক ইত্যাদি দেখে নিজের ভুলট