পাতা:বাঙ্গালার ইতিহাস প্রথম ভাগ (রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায়).djvu/১২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১০২
বাঙ্গালার ইতিহাস।

অখ্যাতি সঞ্চয় করিয়াছে”[১]। হর্ষচরিতের আর এক স্থানে সিংহনাদ নামক সেনাপতি হৰ্ষবর্দ্ধনকে কহিতেছেন,—“দেব, রাজ্যবর্দ্ধন দুষ্ট গৌড়ভুজঙ্গের দংশনে স্বর্গে গমন করিয়াছেন”[২]

 রাজ্যবর্দ্ধনের হত্যাকারী এই গৌড়াধিপ কে? হিউয়েন-থ্‌সং বা ইউয়ান্‌-চোয়াং রাজ্যবর্দ্ধনের হত্যা সম্বন্ধে লিখিয়া গিয়াছেন,—“প্রভাকরবর্দ্ধনের মৃত্যুর পরে (হৰ্ষবর্দ্ধনের) জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রাজ্যবর্দ্ধন সিংহাসনে আরোহণ করিয়া সদ্ভাবে রাজ্য শাসন করিতেছিলেন। এই সময় ভারতের পূর্ব্বাংশস্থিত কর্ণসুবর্ণের রাজা শশাঙ্ক অনেক সময় তাঁহার মন্ত্রিগণকে বলিতেন,—‘যদি সীমান্ত প্রদেশের রাজা ধার্ম্মিক হয়, তবে স্বরাজ্যের অকল্যাণ হয়।’ এই কথা শুনিয়া, তাঁহারা রাজা রাজ্যবর্দ্ধনকে সাক্ষাৎ করিতে আহ্বান করিয়াছিলেন এবং তাঁহাকে নিহত করিয়াছিলেন[৩]।” চীনদেশীয় শ্রমণের মতে রাজ্যবর্দ্ধনের নিহন্তা কর্ণসুবর্ণের রাজা—কিন্তু বাণভট্টের মতে তিনি গৌড়েশ্বর। ইউয়ান্‌-চোয়াং বলেন যে, তাঁহার নাম শশাঙ্ক, কিন্তু স্বর্গগত ডাঃ বুলার (Hofrath Dr. Buhler) বলেন যে, হর্ষচরিতের একখানি পুথিতে রাজ্যবর্দ্ধন নিহন্তার নাম নরেন্দ্রগুপ্ত লিখিত আছে[৪]। হর্ষচরিতের ষষ্ঠ উচ্ছ্বাসের টীকাকার বলিয়া গিয়াছেন যে, যিনি রাজ্যবর্দ্ধনকে হত্যা করিয়াছেন, তিনি শশাঙ্কনামা গৌড়াধিপতি[৫]। হর্ষচরিতের আর এক স্থানে ভণ্ডী

  1. “নিজগৃহদূষণং জালমার্গপ্রদীপকেন কজ্জলমিবাতিমলিনং কেবলমযশঃ সঞ্চিতং গৌড়াধমেন”—Ibid.
  2. “দেব দেবভূয়ং গতে নরেন্দ্রে দুষ্টগৌড়ভুজঙ্গজগ্ধজীবিতে চ রাজ্যবর্দ্ধনে বৃত্তেঽস্মিন্ মহাপ্রলয়ে ধরণীধারণায়াধুনাত্বং শেষঃ”—হর্ষচরিত, পৃঃ ১৬১৷
  3. Beal's Buddhist Record of the Western World, Vol. I, p. 210. শ্ৰীযুক্ত রমাপ্রসাদ চন্দের বঙ্গানুবাদ,—গৌড়রাজমালা— পৃঃ ৮।
  4. Epigraphia Indica, Vol. I. p. 70.
  5. হর্ষচরিত—টীকা।