বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/১২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।

দৈবহি দুহু দোহা দরশন পাওল লখই না পারই কোই।
হুঁ হু দোঁহা নাম শ্রবণে তহি জানল রূপনারায়ণ গোই॥
তথা ভণে বিদ্যাপতি চণ্ডিদাস তথি রূপনারায়ণসঙ্গে।
দুছ আলিঙ্গন করল তখন ভাসল প্রেমতরঙ্গে॥”

 উক্ত কবিতাতে “রূপনারায়ণ গোই” এই বাক্য থাকাতে প্রমাণিত হইতেছে যে, রূপনারায়ণ উহার রচয়িতা ছিলেন। “গোই” পারসী শব্দ, উহার অর্থ—“বলে”।

 বিদ্যাপতি ও চণ্ডিদাসের অব্যবহিত পরেই চৈতন্যদেব প্রাদুর্ভূত হইয়াছিলেন। চৈতন্যের শিষ্যেরা বাঙ্গালা ভাষার বিস্তর উন্নতিসাধন করিয়াছিলেন। চৈতন্য ১৪০৭ শকে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৪৫৫ শকে তাঁহার মৃত্যু হয়। চৈতন্য যে সময়ে বঙ্গদেশে ধর্ম্মসংস্কারকার্য সম্পাদন করিতেছিলেন, সেই সময়ে পঞ্জাবে নানক ও ইউরোপে লুথার ঐ কার্য্য সম্পাদন করিতেছিলেন। সেই সময়ে পৃথিবীতে কেমন একটি ধর্ম্মসংস্কারের হাওয়া পড়িয়াছিল। ধর্মোৎসাহ সাংক্রামিক। চৈতন্য নিজে ধর্ম্মোন্মত্ত ব্যক্তি ছিলেন, এজন্য অন্যকে মাতাইতে সক্ষম হইতেন। তিনি যখন অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হইয়া লোকদিগকে শিক্ষা দিতেন, তখন তাঁহার মুখ হইতে হরিনাম ব্যতীত অন্য শব্দ বিনির্গত হইত না। তিনি অসামান্য রূপলাবণ্য-বিশিষ্ট ছিলেন, তাঁহার অসামান্য রূপলাবণ্য তাঁহার কার্য্যসিদ্ধির প্রতি সহকারিতা করিয়াছিল, তাহার সন্দেহ নাই। সে সময়ে ভারতবর্ষে সুগম রাজমার্গ অথবা লৌহবর্ম্ম ছিল না, তথাপি চৈতন্য সেতুবন্ধ রামেশ্বর হইতে বৃন্দাবন পর্য্যন্ত ভ্রমণ করিয়াছিলেন এবং প্রভূত