বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/২৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২২
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।

নির্ঝরাম্ভঃকণাচ্ছন্ন হইয়া আসিতেছে।” ১৮১৪ সালে পুরুষপরীক্ষা প্রকাশিত হয়। উহা বিদ্যাপতিপ্রণীত ঐ নামের সংস্কৃত গ্রন্থের অনুবাদ। ১৮৩০ সালে কলিকাতার তদানীন্তন লর্ড বিশপ টর্নর সাহেবের প্রস্তাবানুসারে পুরুষ-পরীক্ষ রাজা কালীকৃষ্ণ বাহাদুরের দ্বারা বাঙ্গালা হইতে ইংরাজীতে অনুবাদিত হয়। ঐ অনুবাদ সাহেবমহলে রাজা কালীকৃষ্ণ বাহাদুরের প্রতিষ্ঠার মূল। উল্লিখিত গ্রন্থ সকল এমন অপকৃষ্ট ভাষায় লিখিত যে, রামমোহন রায়কে বাঙ্গালা গদ্যের সৃষ্টিকর্ত্তা বলিলে অন্যায় হয় না। তিনিই বর্ত্তমান বাঙ্গালা গদ্যের জনয়িতা। ১৮১৬ সালে রাজা রামমোহন রায় দশোপনিষদ বাঙ্গালা গদ্য ভূমিকার সহিত প্রকাশ করেন। সেই অবধি তিনি অনেক বাঙ্গালা গদ্যগ্রন্থ প্রকাশ করিতে লাগিলেন। এই সকল গ্রন্থ ধর্ম্মসম্বন্ধীয় বিচারবিষয়ক। ইহার একখানি গ্রন্থ সহমরণের বিপক্ষে। সহমরণের পক্ষের লোকেরা তাঁহাদিগের একখানি গ্রন্থে আমাদিগের দেশের বেচারী স্ত্রীলোকদিগের উপর নানাপ্রকার অযথাদোষারোপ করিয়াছিলেন। রামমোহন রায় তাহাদিগের পক্ষসমর্থন করিয়া যাহা লিখিয়াছেন, তাহা তাঁহার গদ্যভাষার দৃষ্টান্ত স্বরূপ উদ্ধৃত হইতেছে:―

 “পঞ্চম, তাহাদের ধর্ম্মভয় অল্প। এ অতি অধর্ম্মের কথা, দেখ কিপর্য্যন্ত দুঃখ, অপমান, তিরস্কার, যাতনা, তাহারা কেবল ধর্মভয়ে সহিষ্ণুতা করে। অনেক কুলীন ব্রাহ্মণ, যাঁহারা দশ গোনের বিবাহ অর্থের নিমিত্তে করেন, তাহারদের প্রায় বিবাহের পর অনেকের সহিত সাক্ষাৎ হয় না, অথবা যাবজ্জীবনের মধ্যে কাহারো সহিত দুই চারি বার সাক্ষাৎ করেন, তথাপিও ঐ সকল স্ত্রীলোকের মধ্যে অনেকেই ধর্ম্মভয়ে স্বামীর সহিত সাক্ষাৎ