বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।

ভয়ে এ সকল সহ্য করে; কখন এমত উপস্থিত হয় যে, এক স্ত্রীর পক্ষ হইয়া অন্য স্ত্রীকে সর্ব্বদা তাড়ন করে, এবং নীঢ়লোক ও বিশিষ্ট লোকের মধ্যে যাহারা সৎসঙ্গ না পায়, তাহারা আপন স্ত্রীর কিঞ্চিৎ ত্রুটি পাইলে অথবা নিষ্কারণ কোন সন্দেহ তাহারদিগের প্রতি হইলে চোরের তাড়না তাহারদিগকে করে, অনেকেই ধর্ম্মভয়ে লোকভয়ে ক্ষমাপন্ন থাকে, যদ্যপিও কেহ তাদৃশ যন্ত্রণার অসহিষ্ণু হইয়া পতির সহিত ভিন্নরূপে থাকিবার নিমিত্ত গৃহত্যাগ করে, তবে রাজদ্বারে পুরুষের প্রাবল্য নিমিত্ত পুনরায় প্রায় তাহাদিগকে সেই পতিহস্তে আসিতে হয়। পতিও সেই পূর্ব্বজাতক্রোধের নিমিত্ত নানা ছলে অত্যন্ত ক্লেশ দেয়, কখন বা ছলে প্রাণবধ করে; এসকল প্রত্যক্ষসিদ্ধ, সুতরাং অপলাপ করিতে পারিবেন না। দুঃখ এই যে, এই পর্য্যন্ত অধীন ও নানা দুঃখে দুঃখিনী, তাহারদিগকে প্রত্যক্ষ দেখিয়াও কিঞ্চিৎ দয়া আপনকারদের উপস্থিত হয় না, যাহাতে বন্ধনপূর্ব্বক দাহ করা হইতে রক্ষা পায়।”[]

 “পুরুষের প্রাবল্য হেতু” এই প্রয়োগে বিশেষ রস আছে। এই প্রয়োগ দ্বারা প্রমাণ হইতেছে যে, রামমোহন রায় স্ত্রীজাতির যেরূপ উকীল ছিলেন, এমন বোধ হয় সুবিখ্যাত মিল সাহেবও নহেন। এই স্থানে রামমোহন রায় তাঁহার বরাঙ্গিণী মোয়াক্কেলদিগের জন্য যেরূপ লড়িয়াছেন, এমন প্রায় অন্য কাহাকে দৃষ্ট হয় না।

 সুখের বিষয় এই যে, রামমোহন রায় আমাদিগের দেশের স্ত্রীলোকদিগের অবস্থার যে চিত্র চিত্রিত করিয়াছেন, তাহা এই অর্দ্ধ শতাব্দীর মধ্যে কিয়ৎ পরিমাণে পরিবর্ত্তিত হইয়াছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই, এক্ষণে স্ত্রীলোকেরা আর একপ্রকার একশেষে যাইতেছেন। সে কালের


  1. রাজা রামমোহন রায়ের উদ্ধত অংশের মধ্যে স্থানে স্থানে গুরু কর্ত্তার ইতর ক্রিয়া ও ইতর কর্ত্তার গুরু ক্রিয়া ও সর্ব্বনাম আছে। তাঁহার সময়ে বাঙ্গালা গদ্যের অসম্পূর্ণ অবস্থা হেতু এইরূপ হইয়াছে।