পাঁচালী, পাণ্ডুয়ার সন্নিহিত তারাগ্রামনিবাসী পরমানন্দ অধিকারীর তুক্ক, মুর্শিদাবাদের অন্তর্গত বেলডাঙ্গানিবাসী রূপ অধিকারীর ঢপ, বর্দ্ধমানান্তঃপাতী চুপীগ্রামনিবাসী রঘুনাথ রায়ের (দেওয়ান মহাশয়ের) ও নরচন্দ্রের শ্যামাবিষয় গীত, উলুসে গোপালনগরনিবাসী মধুসূদন কানের কীর্ত্তন, বাঁশবেড়ে নিবাসী শ্রীধর কবিরত্নের আদিরস-সংক্রান্ত গীত, গোপাল উড়ে, গোবিন্দচন্দ্র অধিকারী, বদনচন্দ্র অধিকারী, নীলকমল সিংহ, দুর্গাচরণ ঘড়িয়াল, মদনমোহন মাষ্টার প্রভৃতি যাত্রাওয়ালাদিগের সঙ্গীত, এ সকলও বাঙ্গালা ভাষার পুষ্টিসাধন পক্ষে সাধারণ সাহায্য করে নাই। আমরা বাহুল্যভয়ে এ সমস্তে হস্তক্ষেপ করিতে না পারিয়া দুঃখিত রহিলাম।” পণ্ডিত রামগতি ন্যায়রত্ন তাঁহার অত বড় গ্রন্থে যে ভয়ে ঐ সমস্তে হস্তক্ষেপ করিতে পারেন নাই, আমিও ঐ ভয়ের আধিক্যবশতঃ একটি সামান্য বক্তৃতায় ইহাঁদিগের বিষয় অধিক বলিতে পারিলাম না।
কিন্তু আমরা একটি বিশেষ গীতরচয়িতার বিষয় কিছু না বলিয়া ক্ষান্ত থাকিতে পারিলাম না। তাঁহার নাম দাশরথী রায়। দাশু রায়ের পাঁচালী এদেশে বিখ্যাত। উহা সহজ ও কোমল সুরে রচিত এবং উহার মধ্যে কোনটা হাস্যরসের উদ্রেক এবং কোনটা করুণারসের উদ্দীপনা করে বলিয়া উহা আমাদিগের দেশের আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেরই হৃদয়গ্রাহী। কিন্তু উহার মধ্যে অনেকগুলি অশ্লীলতাদোষে এত দূষিত যে, তাহা ভদ্রসমীপে পাঠ করা যায় না।