রূপে কমিয়া আসিতেছে। বাঙ্গালীরা টপ্পা রচনাতে যত পটু, এই সকল গুরুতর বিষয় রচনাতে তত পটু নহে।
আমরা যেরূপ বিষয় বিভাগ করিয়াছি, তাহাতে এক্ষণে মুদ্রাযন্ত্রের পুরাবৃত্ত বিষয়ে কিঞ্চিৎ বলিতে হয়। প্রায় একশত বৎসর হইল, নেথ্যানিয়েল হ্যালহেড নামক এতদ্দেশহিতৈষী উচ্চপদস্থ একজন সাহেব ইংরাজী ভাষায় একখানি বাঙ্গালা ব্যাকরণ রচনা করেন, তাহাতে উদাহরণগুলি ছাপাইবার জন্য বাঙ্গালা অক্ষরের প্রয়োজন হইয়াছিল, কিন্তু তখন ছাপার বাঙ্গালা অক্ষর সৃষ্ট হয় নাই। তাঁহার বন্ধু মহাত্মা চার্লস্ উইলকিন্স সাহেব—ইনি পরে সার চার্লস্ উইলকিন্স হইয়াছিলেন এবং ইংরাজীতে ভগবদ্গীতা অনুবাদ করিয়া খ্যাতি লাভ করিয়াছিলেন,—ইংরাজী ১৭৭৮ সালে স্বহস্তে একসাট বাঙ্গালা অক্ষর প্রস্তুত করেন। সেই প্রথম বাঙ্গালা মুদ্রাযন্ত্রের সৃষ্টি হয়। তাহার পর শ্রীরামপুর মিসনরিরা উক্ত মুদ্রাযন্ত্র বিলক্ষণরূপে উন্নত করেন। তাঁহাদিগের মুদ্রাযন্ত্রে বাঙ্গালা রামায়ণ ও মহাভারত অতি পরিষ্কাররূপে প্রথম ছাপা হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই যে, সংস্কৃত কালেজের তদানীন্তন অধ্যাপক জয়গোপাল তর্কালঙ্কার আপনার মনোমত ঐ দুই গ্রন্থ সংশোধন করিয়া গরীব কৃত্তিবাস ও কাশীরাম দাসের একেবারে দফা খাইয়াছেন। সাধারণীসম্পাদক অক্ষয়চন্দ্র সরকার প্রকৃত কৃত্তিবাসী রামায়ণ ও কাশীদাসী মহাভারত ছাপাইবার চেষ্টা করিতেছেন।
১৮১৬ সালে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য “বেঙ্গল গেজেট” নামক প্রথম বাঙ্গালা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। এই গঙ্গাধর