বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫৮
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।

ভট্টাচার্য সচিত্র অন্নদামঙ্গল ও অন্যান্য পুস্তক ছাপাইয়া অনেক টাকা উপার্জ্জন করিরাছিলেন। সাহেবদিগের নিকট বাঙ্গালা ভাষার উন্নতি-সাধনসম্বন্ধীর নাম বিষয়ে আমরা অত্যন্ত উপকৃত, কিন্তু আমরা এ বিষয়ে শ্লাঘা করিতে পারি যে, এক জন বাঙ্গালী বাঙ্গালা সম্বাদ-পত্রের সৃষ্টিকর্ত্তা। ১৮১৬ সালে “মার্ষম্যান সাহেব “সমাচার দর্পণ” নামক সংবাদপত্র প্রথম প্রচার করেন। এই সংবাদপত্র অনেক দিন চলিয়াছিল। গবর্ণমেণ্ট ইহার অনেক কাপির গ্রাহক হইয়া ইহার বিস্তর সাহায্য করিয়াছিলেন। আমাদিগের স্মরণ হয়, আমরা বাল্যকালে এই সমাচার-দর্পণ অতি আগ্রহের সহিত পাঠ করিতাম। আমাদিগের গ্রামে “বাজারিয়া” দলনামক পরপীড়ক একদল গাঁজাখোর ছিল। সমাচার-দর্পণ তাহাদিগের অত্যাচারের বিষয় লেখাতে দারগা আসিয়া সুরখাল করে, তাহাতে তাহারা শাসিত হইয়া যায়। রাজা রামমোহন রায় ১৮১৯ সালে “কৌমুদী” নামে সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে তাঁহার সহকারী ছিলেন। কিন্তু রামমোহন রায় সহমরণের বিপক্ষতা করাতে ভবানীচরণ তাহাতে বিরক্ত হইয়া ১৮২২ সালে “চন্দ্রিকা” নামক সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। এই চন্দ্রিকা অদ্যাপি বিদ্যমান আছে ও প্রচলিত ধর্মাবলম্বীদিগের মুখস্বরূপ বলিয়া গণ্য। ভূতপূর্ব্ব সল্ট বোর্ডের দেওয়ান নীলরত্ন হালদার ১৮২৫ সালে “বঙ্গদূত” নামক একখানি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। আমার “সে কাল এ কাল” গ্রন্থে উল্লেখিত আছে যে, বঙ্গদূতের সহিত আর একটি বাঙ্গালা সংবাদপত্রের বিবাদ