বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৬০
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।

কিন্তু তিনি উহার প্রথম সম্পাদক ছিলেন না, প্রথম সম্পাদক আর একজন ছিলেন। উল্লিখিত প্রথম সম্পাদক আন্দুলিয়ার রাজা রাজনারায়ণের বিপক্ষে লেখাতে ছেলেধরা যেমन গোপনে ছেলে ধরিয়া লইয়া যায়, তেমনি রাজা রাজনারায়ণ তাঁহাকে কলিকাতা হইতে গোপনে বলপূর্ব্বক আন্দুলে লইয়া গিয়া কয়েক দিন তথায় কয়েদ করিয়া রাখেন। এরূপ সম্পাদকহরণ ব্যাপার বঙ্গদেশে, এমন কি বোধ হয় জগতে, কখনও ঘটে নাই। গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য্য মুর্শিদাবাদের কুমার কৃষ্ণনাথ রায়ের বিপক্ষে লেখাতে জেলে যাইবার উপক্রম হইয়াছিলেন। ১৮৪০ সালে রাজা কৃষ্ণনাথ রায় “মুর্শিদাবাদ পত্রিকা” নামে এক সংবাদপত্র বাহির করেন। এইটি মফঃসলস্থ সংবাদপত্রের প্রথম দৃষ্টান্ত। ১৮৪৭ সালে বিখ্যাত জমীদার কালীনাথ চৌধুরী “রঙ্গপুর বার্তাবহ” নামে এক সংবাদপত্র বাহির করেন, এইটি মফঃসলে প্রকাশিত দ্বিতীয় সংবাদপত্র। ১৮৫৮ সালে দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ “সোমপ্রকাশ” প্রথম প্রকাশ করেন। ১৮৪৭ সাল হইতে ১৮৫৮ সাল পর্য্যন্ত এই একাদশ বৎসরের মধ্যে নানা সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়, তাহার মধ্যে অনেকগুলি জঘন্য। এই সময়ে “আক্কেল গুড়ুম” নামে একখানি সম্বাদপত্র প্রকাশিত হয়। ইহার লিখনভঙ্গী দেখিয়া লোকের আক্কেল যথার্থই গুড়ুম হইত। সোমপ্রকাশ প্রকাশের পূর্ব্বের সম্বাদপত্র সকল অশ্লীলতা দোষে অত্যন্ত দূষিত ছিল। প্রভাকর ও রসরাজে যখন ঝগড়া হইত, তখন রাস্তায় দুইজন ময়লাপরিষ্কারকজাতীয় লোক ঝগড়া করিয়া পরস্পরে হণ্ডিকাস্থিত ময়লা লইয়া