বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।
৬৫

 বাঙ্গালা ভাষার বক্তৃতা করিবার উৎকৃষ্ট প্রণালী ব্রাহ্মসমাজের সভ্যেরা প্রথম প্রবর্ত্তিত করেন। ব্রাহ্মসমাজের বক্তৃতার মধ্যে শ্রীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যাখ্যান অতি প্রসিদ্ধ। উহা তাড়িতের ন্যায় অন্তরে প্রবেশ করিয়া আত্মাকে চমকিত করিয়া তুলে এবং মনশ্চক্ষুসমক্ষে অমৃতের সোপান প্রদর্শন করে। দেবেন্দ্রবাবু ধর্ম্মপ্রবর্ত্তক বলিয়া বিখ্যাত, কিন্তু বঙ্গভাষা তাঁহার নিকট উক্ত ব্যাখ্যান প্রভৃতি ধর্ম্মগ্রন্থ প্রণয়ন নির্মিত্ত এবং অন্যান্য কারণজন্য কতই উপকৃত, তাহা বলা যায় না। তিনি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ না করিলে এবং বহুল আয়াস ও পরিশ্রম স্বীকারপূর্বক প্রথম প্রথম তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রস্তাবগুলি বিশেষরূপে সংশোধিত না করিয়া দিলে বাঙ্গালা ভাষার বর্ত্তমান উন্নতির পত্তনভূমি সংস্থাপিত হইত না। বিদ্যাসাগর মহাশয় যেমন আপনার প্রণীত বেতালপঞ্চবিংশতি গ্রন্থ দ্বারা বঙ্গভাষার বর্ত্তমান উন্নতির প্রথম সূত্রপাত করেন, দেবেন্দ্রবাবুও সেই একসময়েই তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশ ও সংশোধন দ্বারা সেই উন্নতির প্রথম সূত্রপাত করেন। প্রাথমিক পত্রিকাগুলি সংশোধনজন্য শ্রীযুক্ত অক্ষয়বাবু তাঁহার নিকট কত উপকৃত, তাহা তিনি তাঁহার “বাহ্যবস্তু” পুস্তকের ভূমিকায় স্বীকার করিয়াছেন। ঐ “বাহ্যবস্তু” প্রাথমিক তত্ত্ববোধিনী-পত্রিকাগুলিতে প্রথম প্রকাশিত হইয়াছিল।

 ব্রাহ্মসমাজদ্বারা প্রবর্ত্তিত বক্তৃতারীতি ধর্ম উপদেশ প্রদানে নিরুদ্ধ ছিল, কিন্তু এক্ষণে তাহা অন্য সকল কার্য্যে ব্যবহৃত হইতেছে। কিন্তু অদ্যাপি যে সকল সভায় উপস্থিত