বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।
৭৩

অনুকরণ করি না। প্রত্যেক ব্যক্তির সম্বন্ধে পৃথিবীর সকল স্থান অপেক্ষা কোন এক বিশেষ স্থান সর্ব্বাপেক্ষা মনোহর। ধ্রুবতারার প্রতি,যেমন দিগ্‌দর্শনের শলাকা লক্ষিত থাকে, তেমনি ধিদেশগত পুরুষের চিত্ত সেই স্থানের প্রতি লক্ষিত থাকে। সেই স্থান তাঁহার স্বদেশ। সেই স্থানের সহিত তাঁহার বালসখিত্ব, সেই স্থান তাঁহার প্রাণপ্রিয় জনদিগের আবাস। সেই প্রিয় মনোহর স্বদেশ নিরুর্ব্বর ও প্রমোদজনক দৃশ্যশূন্য হইলেও উৎকৃষ্ট অন্য কোন দেশ—এমন কি কাশ্মীরের নির্ম্মল হ্রদ ও মনোহর উদ্যান ও সিরাজের সুচারু গোলাবপুষ্পের উপবন ও নেপল‍্সসন্নিহিত জলের ও তটের নয়নবিমুগ্ধকর শোভায় হাস্যমান বিখ্যাত উপসাগর পর্যন্ত তাঁহার মনকে আকৃষ্ট করিয়া রাখিতে পারে না; এমন স্বদেশ ও স্বদেশীয় ভাষার প্রতি যাঁহার অনুরাগ নাই, তাহাকে কি মনুষ্য বলা যাইতে পারে?”[] যখন ইংরাজীতে কৃতবিদ্য ব্যক্তিরা ইংরাজীর সঙ্গে বাঙ্গালা মিশ্রিত করিয়া একপ্রকার খিচুড়ি ভাষাতে কথা কহিয়া থাকেন, যখন তাঁহারা মাতৃভাষাতে একখানি সামান্য পত্র লিখিতে হেয় বোধ করেন, যখন তাঁহারা বাঙ্গালীর সভাতে ইংরাজীতে বক্তৃতা করেন, তখন স্বদেশের প্রতি ও স্বদেশীয় ভাষার প্রতি তাঁহাদিগের প্রকৃত প্রেম জন্মিয়াছে, ইহা আমরা কি প্রকারে বলিতে পারি? স্কুল কালেজের ছাত্রেরা ইংরাজী ভাষাতে আপনাদিগের অধিকার জন্মাইবার জন্য বিতর্ক সভা সংস্থাপন করিয়া


১০
  1. হেয়ার সাহেবের স্মরণার্থ সভায় অভিব্যক্ত উল্লিখিত বক্তৃতা হইতে উদ্ধত।——১৭৭৮ শকের জ্যৈষ্ঠ মাসের তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা দেখ।