বাঁচাইয়া অথবা মা’র নিকট হইতে পয়সা সংগ্রহ করিয়া ঐ সকল গ্রামে গিয়াও তিনি ব্যায়াম শিক্ষা দিতেন। প্রিয়নাথ স্বয়ং বলিতেন যে, তাঁহার সকল ব্যয়ামশালায় নিম্নলিখিত কয়েকটি সাধারণ নিয়ম ছিল এবং ঐ সকল নিয়ম সকলকেই পালন করিতে হইত:—
১। অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত কেহ আখ্ড়ায় যোগ দিবেন না। (বলা বাহুল্য কোনও অভিভাবক মত না দিলে তিনি নিজে গিয়া উদ্দেশ্য বুঝাইয়া সুজাইয়া ও অনুনয় বিনয় সহকারে অনুমতি করাইবার চেষ্টা করিতেন)।
২। কেহ কোনরূপ নেশার দ্রব্য সেবন করিতে পারিবেন না―মায় পান, তামাক, নস্য পর্য্যন্ত নহে।
৩। কেহ খুব সৌখীন কায়দায় চুলের বাহার বা টেরী কাটিতে পারিবেন না, তবে চুল আঁচড়াইবেন।”[১]
প্রিয়নাথ যখন নিজগ্রাম ছোট জাগুলীয়ায় জিমন্যাষ্টিকের আখড়া খুলিয়াছিলেন, তখন গ্রামের প্রবীণ সম্প্রদায় তাঁহার প্রতি অত্যন্ত বিরূপ হইয়াছিলেন, কিন্তু তাঁহার জ্ঞাতি ভ্রাতা হাইকোর্টের প্রসিদ্ধ উকীল শ্রদ্ধেয় অমরনাথ বসু মহাশয় প্রিয়নাথকে এই কার্য্যে সমুচিত উৎসাহ প্রদান করিয়াছিলেন ও তাঁহার নিজের বাড়ীর ছেলেদের প্রিয়নাথের ক্লাবে পাঠাইয়াছিলেন।
- ↑ ‘বাঙ্গালীর বাহুবল’―শ্রীযুক্ত বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ প্রণীত
৮