সংস্কৃতভাষা ও সংস্কৃতসাহিত্যশাস্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব \ყ8x5 করিলে, সৰ্ব্বসাধারণের বিদ্যানুশীলন সম্পন্ন হওয়া অসম্ভব। সুতরাং, ইয়ুরোপীয় কোন ভাষা হইতে পুরাবৃত্ত পদার্থবিদ্যা প্রভৃতি তত্তৎপ্রচলিত ভাষায় সঙ্কলিত হওয়া অত্যাবশ্যক । কিন্তু, সংস্কৃত না জানিলে কেবল ইঙ্গরেজী শিখিয়া আমরা যে ঐ মহোপকারক গুরুতর বিষয় সম্পন্ন করিতে পারিব, ইহা কোন ক্রমেই সম্ভাবিত নহে। তৃতীয়তঃ, পূৰ্ব্বকালীন লোকদিগের আচার, ব্যবহার, রীতি, নীতি, ধৰ্ম্ম, উপাসনা ও বুদ্ধির গতি প্রভৃতি বিষয় সকল মনুষ্যমাত্রের অবশ্যজ্ঞেয়, ইহা, বোধ হয়, সকলেই অঙ্গীকার করিয়া থাকেন। অন্যান্যদেশসংক্রান্ত এই সমস্ত বিষয় তত্তদেশীয় পুরাবৃত্ত গ্রন্থ দ্বার অবগত হওয়া যায়। সংস্কৃত ভাষায়, রাজতরঙ্গিণী ব্যতিরিক্ত, প্রকৃত পুরাবৃত্ত গ্রন্থ এক খানিও নাই । রাজতরঙ্গিণীতেও এই বহুবিস্তৃত ভারতবর্ষের এক অতি ক্ষুদ্রাংশ কৰ্ম্মীরের পুরাবৃত্ত মাত্র সঙ্কলিত আছে। সেই সঙ্কলিত পুরাবৃত্তও সৰ্ব্বসাধারণলোকসংক্রান্ত নহে। কে কোন সময়ে সিংহাসনে আরোহণ করিয়াছিলেন, কে কত দিন রাজ্যশাসন ও প্রজাপালন করিয়াছিলেন, কে কোন সময়ে সিংহাসনভ্রষ্ট হইয়াছিলেন, কে কাহাকে সিংহাসনভ্রষ্ট করিয়া স্বীয় ক্ষমতাতে রাজ্যাস্পদ অধিকার করিয়াছিলেন ; এইরূপ, কেবল রাজাদিগের বৃত্তাস্তমাত্র সঙ্কলিত হইয়াছে। সুতরাং, প্রকৃত পুরাবৃত্তের নিতান্ত অসদ্ভাবস্থলে বেদ, স্মৃতি, দর্শন, পুরাণ, ইতিহাস, সাহিত্যাদি শাস্ত্রের অনুশীলন ব্যতিরেকে, পূর্বকালীন ভারতবর্ষীয়দিগের আচার ব্যবহারাদি পরিজ্ঞানের আর কোন পথ নাই। চতুর্থত, যাবতীয় সাহিত্যশাস্ত্রের অনুশীলনে যে আমোদ, যে উপকার ও যে উপদেশ লাভ হইয় থাকে, সংস্কৃত সাহিত্যশাস্ত্র সেই আমোদ, সেই উপকার ও সেই উপদেশ প্রদানে অসমর্থ নহে । এই সমস্ত সংস্কৃত ভাষার অনুশীলনসাপেক্ষ । এক্ষণে, এতদ্দেশে যাহারা লেখা পড়ার চর্চা করিয়া থাকেন, তাহারা যে এইরূপ মহোপকারিণী সংস্কৃত ভাষার অনুশীলনে একান্ত উপেক্ষা করেন, ইহা অল্প আক্ষেপের বিষয় নহে। সম্পূর্ণ
পাতা:বিদ্যাসাগর গ্রন্থাবলী (শিক্ষা ও বিবিধ).djvu/৬৬৫
অবয়ব