পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিবাহ ও বধূজীবন

করা যায়, তাহাকে সাত্ত্বিক দান কহে। দানের জন্য অহঙ্কার প্রকাশে ভগবতী দেবীর আদৌ প্রবৃত্তি ছিল না। তিনি সুনামের জন্য কখন দান করিতেন না। দরিদ্রের সেবা এবং রুগ্নের শুশ্রূষা আজীবন তাঁহার নিষ্কামপ্রসূতা নিত্যক্রিয়া ছিল।

 আহা! এরপ শিক্ষা দীক্ষার কথা মনে করিলে আনন্দাশ্রুসম্বরণ করিতে পারা যায় না। সে কালের এক একটি একান্নবর্ত্তী পরিবার কি শান্তিনিকেতনই ছিল, কি পুণ্যের প্রস্রবণই সেখান হইতে প্রবাহিত হইত। ভগবতী দেবী, তুমিই ধন্য, যে এরূপ পুণ্যাশ্রম মাতুলালয়ে তুমি বাল্যকালে লালিত পালিত হইয়াছিলে! এরূপ মাতুলালয়ে তোমার বাল্যজীবন অতিবাহিত হইয়াছিল! এই আদর্শ হিন্দু গৃহের ক্রিয়াকলাপ, রীতিনীতি, ভাবভক্তি তোমার চরিত্রগঠনের প্রধানতম উপাদান হইয়াছিল! এবং উত্তরকালে তোমার গর্ভে বঙ্গের যে বিরাট মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন, তাঁহার যে অলৌকিক লোকসেবার মন্দাকিনীধারা প্রবাহিত হইয়া সমগ্র বঙ্গসমাজকে উর্ব্বর করিয়াছে, নবজীবন প্রদান করিয়াছে, ও শক্তিশালী করিয়াছে, সেই অপ্রতিহত প্রবাহের উৎপত্তিস্থল, তোমার যে পবিত্র হৃদয়ে নিবদ্ধ দেখিতে পাই, সেই পবিত্র হৃদয় তোমার এই পুণ্যাশ্রম মাতুলালয়েই সংগঠিত হইয়াছিল!


দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ॥ বিবাহ ও বধূজীবন

 ১৭৩৫ শকে হুগলী জেলার অন্তঃপাতী বনমালিপুর গ্রামের ‘ভুবনেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের পৌত্র এবং রামজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠ পুত্র, ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহিত ভগবতী দেবীর শুভপরিণয় কার্য্য সমাধা হইল। তখন ঠাকুরদাসের বয়ঃক্রম তেইশ কি চব্বিশ বৎসর; ভগবতী দেবী নবম বর্ষে পদার্পণ করিয়াছেন।

 আমরা এস্থলে ভগবতী দেবীর শ্বশুরকুলের সংক্ষিপ্ত পরিচয় পাঠকবর্গের অবগতির জন্য লিপিবদ্ধ করিলাম।

 ভুবনেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় সঙ্গতিসম্পন্ন ও সংস্কৃত শাস্ত্রে সুপন্ডিত ছিলেন। তাঁহার পাঁচ পুত্র; সকলেই সংস্কৃত ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। তৃতীয় পুত্রের নাম রামজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ইনিই ভগবতী দেবীর শ্বশুর। রামজয় ঘাটাল মহকুমার অতঃপাতী বীরসিংহ গ্রামবাসী বিখ্যাত পণ্ডিত উমাপতি তর্কসিদ্ধান্তের দুর্গানাম্নী কনিষ্ঠা কন্যার পাণিগ্রহণ করেন। কালক্রমে রামজয়ের দুইটি পুত্র ও চারিটি কন্যা জন্মিয়াছিল। পত্রদ্বয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠের নাম ঠাকুরদাস, কনিষ্ঠের নাম কালিদাস। কন্যা চারিটির নাম—মঙ্গলা, কমলা, গোবিন্দময়ী ও অন্নপূর্ণা। ভুবনেশ্বর বার্দ্ধক্যনিবন্ধন মানবলীলা সম্বরণ করিলে