বিচিত্র সৃষ্টি। এই উভয় প্রকৃতিই অনুপম সৌন্দর্যের আধার। পুরুষের শরীর বলিষ্ঠ, কর্ম্মঠ,—নারীদেহ সুকোমল ও লাবণ্যে পরিপূর্ণ। পুরুষ প্রকৃতি শৌর্য্য, বীর্য্য, দৃঢ়তা প্রভৃতি গুণের আধার—আর নারীপ্রকৃতি স্নেহ, মমতা, সহিষ্ণুতা প্রভৃতি গুণের মূর্ত্তিমতী প্রতিকৃতি। বিধাতার এমনই সৃষ্টিকৌশল যে, পাছে, ঐ প্রকৃতিদ্বয় পরস্পর বিচ্ছিন্ন হইয়া তাঁহার শুভ অভিপ্রায়ের পরিপন্থিরূপে যাবতীয় সৃষ্টিক্রিয়ার ব্যাঘাত উৎপাদন করে, এইজন্য তিনি উহাদিগকে পরস্পরসাপেক্ষ করিয়া দিয়াছেন। যেরূপ পর্ব্বতগাত্রনিঃসৃত দুইটী জলস্রোত সমতল ভূমিতে আসিয়া পরস্পর মিলিত হইয়া এক হইয়া যায় এবং সেই একীভূত জলস্রোত শক্তি ও সৌন্দর্য্য বিস্তার করিতে করিতে অনন্ত সাগরাভিমুখে প্রধাবিত হয়, সেইরূপ রমণী ও পুরুষ ইহ সংসারে জন্মগ্রহণ করিয়া লালিত পালিত ও সম্বর্দ্ধিত হয়, এবং শুভ—পরিণয় যোগে পরস্পর সম্বদ্ধ হইয়া অনন্ত উন্নতি ও সাধনার দিকে অগ্রসর হইতে থাকে। ইহারই নাম স্বাভাবিক প্রেম। এই স্বাভাবিক প্রেমমুগ্ধ দুই অভিন্ন হৃদয়ের যে পরস্পর উদ্বাহ বন্ধন, তাহাই প্রকৃত পবিত্র পরিণয়। এই শুভ— পরিণয় প্রথাই পরিবারগঠনের মূল এবং মানবের সংসারবন্ধনের সেতুস্বরূপ।
কর্ত্তব্যসাধনেই মানুষের মনুষ্যত্ব। হিতাহিত বিচার কর্ত্তব্যজ্ঞানের মূলেই নিহিত রহিয়াছে। পরিণয়-সূত্রে আবদ্ধ হইয়া পরিবারবর্গে পরিবেষ্টিত হইলে, মানুষের দাম্পত্যকর্ত্তব্য এবং অপত্যাদির প্রতি কর্ত্তবোর উৎপত্তি হইয়া থাকে। প্রতিবেশীর সুখস্বচ্ছন্দতার প্রতি দৃষ্টি রাখাও পৌরজন মাত্রেরই কর্ত্তব্য। মানব জাতিতে জন্ম হেতু, আর আত্মকর্ম্ম ও অবস্থা বশতই মানুষকে কতকগুলি কর্ত্তব্যসাধন করিতে