বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৮
ভগবতী দেবী।

বাধ্য হইতে হয়। এইরূপে চিন্তা করিলে, মানুষের কর্ত্তব্যের অসীম পরিসর দেখিতে পাওয়া যায়। পিতামাতার প্রতি সন্তানের, সন্তানের প্রতি পিতামাতার, পতির প্রতি পত্নীর, পত্নীর প্রতি পতির, ভ্রাতাভগিনীর প্রতি ভ্রাতাভগিনীর, আত্মীয় কুটুম্বের প্রতি আত্মীয় কুটুম্বের, প্রতিবেশীর প্রতি প্রতিবেশীর, স্বদেশবাসীর প্রতি স্বদেশবাসীর এবং প্রত্যেক মনুষ্যের প্রতি প্রত্যেক মনুষ্যের কর্ত্তব্য রহিয়াছে। এই সকল কর্ত্তব্যের কোন একটী সাধিত না হইলেই, মানুষকে অপরাধী হইতে হয়।

 জ্ঞান ও শক্তি অনুসারে মানুষের কর্ত্তব্যের পরিসর বর্দ্ধিত হইয়া থাকে। মাতাপিতার প্রতি কর্ত্তব্য বুদ্ধিমান ও পারদর্শী সন্তানের যত অধিক, নির্ব্বোধ বা অল্পবয়স্ক সন্তানের তত নহে। যিনি যে পরিমাণে বিধাতার প্রদত্ত সম্পদ লাভ করিয়াছেন, তিনি সেই পরিমাণে তাহার সদ্ব্যবহার না করিলে প্রত্যবায়গ্রস্ত হইবেন তাহাতে সন্দেহ কি? কর্ত্তব্যসাধনেই প্রকৃত ধার্ম্মিকতা। কর্ত্তব্য যাঁহার নিকট দুর্ব্বহ নহে, কর্ত্তব্যকার্য্যসম্পাদন, তিক্ত ঔষধ সেবনের হ্যায় যাঁহার নিকট ক্লেশকর নহে, বালকের ব্যায়ামের হ্যায় কর্ত্তব্য যাঁহার নিকট মঙ্গলকর ও সুখপ্রদ, তিনিই প্রকৃত নিষ্কামধর্ম্মের অধিকারী এবং সাধুপদবাচ্য।

 ১২৪৮ সালের অগ্রহায়ণ বা ১৮৪১ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে, ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের প্রধান পণ্ডিতের পদে মাসিক ৫০৲ টাকা বেতনে বিদ্যাসাগর মহাশয় নিযুক্ত হন। ইহার কয়েক মাস পরে বিদ্যাসাগর মহাশয় পিতাকে কর্ম্ম পরিত্যাগ করিতে পরামর্শ দেন। তিনি বলিলেন, “বাবা, এখন আমি মাসে ৫০৲ টাকা বেতন পাইতেছি, ইহার দ্বারা স্বচ্ছন্দে সংসার চলিবে। আপনি এ পর্য্যন্ত আমাদের জন্য বিস্তর কষ্ট