সহ্য করিয়াছেন এবং অকাতরে পরিশ্রম করিয়াছেন। আপনাকে আর শরীরপাত করিতে দিব না। আপনি দেশে গিয়া অবস্থিতি করুন।” বিদ্যাসাগর মহাশয়ের নিরতিশয় নির্ব্বন্ধে বাধ্য হইয়া ঠাকুরদাস কর্ম্ম পরিত্যাগ পূর্ব্বক বীরসিংহে গমন করিলেন। বিদ্যাসাগর প্রতি মাসে তাঁহাকে ২০৲ টাকা পাঠাইয়া দিতেন এবং আপনার বাসা খরচের নিমিত্ত ৩০৲ টাকা রাখিতেন।
ঠাকুরদাস কর্ম্ম হইতে অবসর গ্রহণ করিলে পর মাতা দুর্গাদেবী উপযুক্ত পুত্র ও পুত্রবধূর উপর সংসারের যাবতীয় ভার অর্পণ করিয়া প্রশান্তমনে ভগবচ্চিন্তায় দিনযাপন করিতে লাগিলেন। বিদ্যাসাগর মহাশয়ও সংসারের জন্য অর্থব্যয়ের ভার পিতার উপর এবং পরিবারে গৃহিণীপনার ভার জননীর উপর অর্পণ করিয়া নিশ্চিন্ত রহিলেন। মাতাপিতাও উপযুক্ত পুত্রের অনভিমত কোন কর্ম্ম প্রাণান্তেও করিতেন না। পরস্পরের মধ্যে এইরূপ দায়িত্ব জ্ঞান ছিল বলিয়াই ঐ একান্নবর্ত্তী পরিবারের গার্হস্থ্য ধর্ম্মসাধনে কোন প্রকার অন্তরায় উপস্থিত হয় নাই।
ন্যায়পরতা পারিবারিক শান্তি ও উন্নতির প্রতিভূ-স্বরূপ। একান্নবর্ত্তী পরিবার মধ্যে বাস করিতে হইলেই প্রবল ও দুর্ব্বল, স্বার্থপর ও পরার্থপরারণ, কোপন এবং ক্ষমাশীল, এবম্বিধ বিবিধ প্রকার অবস্থা ও চরিত্রশালী বহু লোককে একত্র অবস্থিতি করিতে হয়। ন্যায়জ্ঞান যদি মানুষের স্বাভাবিক না হইত, ন্যায়ান্যায় বিচার দ্বারা যদি পরিবার পরিচালিত না হইত, তাহা হইলে অত্যাচার, অপচয় এবং বাদ বিসংবাদে উহা উৎসন্ন হইয়া যাইত। একান্নবর্ত্তী বৃহৎ পরিবারে সর্ব্বদা যে সকল অস্থবিধা সংঘটনের সম্ভাবনা, ঠাকুরদাসের গৃহে সেরূপ অসুবিধার অভাব