বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯০
ভগবতী দেবী।

ছিল না। কিন্তু তাঁহার ন্যায়দণ্ডের তুলাবিধানে সে সকল অসুবিধা ও অভিযোগ জলবিম্ববৎ উৎপত্তি মাত্রই লয় প্রাপ্ত হইত। এইরূপে ঠাকুরদাস গৃহকর্ত্তৃরূপে স্বীয় পরিবারের এবং অভিভাবকরূপে প্রতিবেশিগণের তত্ত্বাবধান করিতে আরম্ভ করিলেন এবং ভগবতী দেবী গৃহিণীরূপে গৃহের ও হিতৈষিণীরূপে প্রতিবেশিগণের সেবা শুশ্রূষায় নিয়ত নিরত হইলেন এবং তাঁহার পারিবারিক জীবনেরও সূচনা হইল।

 বর্ত্তমান এবং ভবিষ্যৎ সুখ ও মঙ্গল সাধনের জন্যই মানুষ সংসারযাত্রা আরম্ভ করে। কিন্তু মানুষের আত্মকর্ম্মফলে সেই সুখ ও মঙ্গল লাভের কতকগুলি অন্তরায় ঘটিয়া থাকে। আলস্য পারিবারিক সুখ নাশের এক প্রধান হেতু। আলস্য দারিদ্র্যের মূলীভূত কারণ এবং চরিত্র-শিথিলতার নিত্যসহচর। দারিদ্র্য নানা দুঃখের জন্মদাতা, মনুষ্যের মনুষ্যত্বনাশক, এবং জনসমাজের শক্তি ও পবিত্রতার মূলোৎপাটক। এই গুণরাশিনাশী দারিদ্র্যের এক প্রধান কারণ আলস্য। আলস্য কেবল দরিদ্রতারই উৎপাদক নহে। সংসারের মধ্যে এক ব্যক্তি অলস হইলে, তাহাকে অপর ব্যক্তির গলগ্রহ হইতে হয়, অপর ব্যক্তি বা ব্যক্তিদিগকে তাহার করণীয় পরিশ্রমের ভার বহন করিতে হয়। ইহাতেও বহুস্থলে মনোভঙ্গ হইয়া থাকে।

 অক্ষমা পারিবারিক শান্তিভঙ্গের অন্য এক প্রধান কারণ। পরস্পরের সুখদুঃখের ভাগী হইয়া, যে কতকগুলি লোক এক পরিবারভুক্ত হইয়া থাকে, তাহাদিগের মধ্যে বিশেষ সহিঞ্চুতার প্রয়োজন। একপরিবারস্থ জনগণের পদেপদে পরস্পরের ইচ্ছা, রুচি ও স্বচ্ছন্দতার বিরোধী হইবার সম্ভাবনা। অতএব যাহাতে মনোভঙ্গের কারণ না ঘটে, তদ্বিষয়ে