যেমন সাবধান হওয়া আবশ্যক, তেমনই আবার ক্ষমাশীল হইতে যত্ন করাও,সর্ব্বতোভাবে কর্ত্তব্য। উগ্রস্বভাবই অসহিষ্ণুতার কারণ। ক্ষমাশীল লোক পারিবারিক বন্ধনের অটল স্তম্ভ। ক্ষমাশীল লোকদ্বারা যে পরিবার গঠিত হয়, তাহা সংসার সুখের দুর্গস্বরূপ।
পারিবারিক সুখের আর এক অন্তরায় আতিশয্য। কোন বিষয়েই আতিশয্য বাঞ্ছনীয় নহে। সামঞ্জস্য রক্ষা করা প্রাকৃতিক নিয়মের এক প্রধান লক্ষণ। মানুষের হৃদয়মনের কোন বৃত্তি বা ভাব অস্বাভাবিক রূপে আতিশয্য লাভ করিলে, মানবজীবন বিকৃত এবং অক্ষম হইয়া পড়ে। সমঞ্জসীভূত উন্নতি সাধনেই মনুষ্য জীবনের সৌন্দর্য্য ও কার্য্যকারিতা অবস্থিতি করে। কোন বিষয়ে আতিশয্য হইলেই জীবনের সৌন্দর্য্য ও কার্য্যকারিতার ব্যাঘাত ঘটিয়া থাকে। আত্মরক্ষার্থে এবং আত্মজনের হিতার্থে অর্থসঞ্চয় করা যেমন মনুষ্যমাত্রেরই কর্ত্তব্য, তেমনিই আবার দয়াদাক্ষিণ্য প্রভৃতি সদ্গুণের বিকাশ দ্বারা চরিত্রের উৎকর্ষসাধন ও সমাজের হিতসাধন করিবার জন্য, দান এবং পরোপকার করাও মানুষের অবশ্য কর্ত্তব্য। কিন্তু সঞ্চয় বা দান, ইহার কোন বিষয়েই আতিশয্য প্রার্থনীয় নহে। সঞ্চয়ে আতিশয্য অবলম্বন করিলে, মানুষ কার্পণ্য অবলম্বন করিয়া কেবল যে দান বা পরোপকারেই নিবৃত্ত থাকে, তাহা নহে, আত্মহিত এবং আত্মজনের প্রয়োজন সাধনার্থে ব্যয় করিতেও কুণ্ঠিত হইয়া থাকে। চন্দনভারবাহী গর্দভ যেমন উহার ভারই উপলব্ধি করিতে পারে, উহার অন্যান্য গুণ হৃদয়ঙ্গম করিতে পারে না, কৃপণ ব্যক্তিও সেইরূপ সংসারের ভার বহন করে এবং ঐ ভার মাত্র উপলব্ধি করিতে পারে—পারিবারিক জীবনের মাধুর্য্য হৃদয়ঙ্গম করিতে