অসমর্থ।[১]এইজন্য কবি অমরভাষায় সমৃদ্ধিশালী কৃপণ ব্যক্তিদিগকে সম্ভাষণ করিয়া বলিয়াছেন:—“তুমি ধনী হইলেও দরিদ্র। গর্দ্দভ উহার নিপীড়িত পৃষ্ঠে পিণ্ডীভূত সুবর্ণরাশির ভার বহন করে, তুমিও সেইরূপ ধনের ভার মাত্র বহন করিয়া পথে একটুকু অগ্রসর হইতেছ, এবং পরিশেষে মৃত্যু আসিয়া তোমায় সেই ভার হইতে বিমুক্ত করিতেছে।[২] ব্যয়কুণ্ঠতা যেমন একদিকে অন্যায়, সেইরূপ অপরদিকে দান বা পরোপকারে আতিশয্য অবলম্বন করিলেও মানুষ অপব্যয়ী এবং অপরিণামদর্শী হইয়া সর্ব্বস্বান্ত হইয়া থাকে, এবং পরিণামে বিপৎকালে আত্মরক্ষা বা আত্মজনের প্রতি অবশ্য কর্ত্তব্যকার্য্যও করিয়া উঠিতে পারে না। কার্পণ্য এবং অমিতব্যয়িতা হইতে দূরে থাকিয়া, জীবনযাত্রা নির্ব্বাহ করিবার চেষ্টা করাই প্রকৃত জ্ঞানী লোকের কর্ত্তব্য।
পারিবারিক সুখের আর এক অন্তরায়, পারিবারিক জীবনে শ্রদ্ধার অভাব। শাস্ত্রে আছে:—“ক্ষুধাতে প্রজ্ঞা নষ্ট করে, ধর্ম্মবুদ্ধি বিলুপ্ত হয়। যাহার জ্ঞান ক্ষুধাতে নষ্ট হইয়াছে, তাহার ধৈর্য্যও থাকে না। যে বুভুক্ষাকে জয় করে, সে নিশ্চিত স্বর্গ জয় করে। যেখানে দান প্রবৃত্তি থাকে, সেখানে ধর্ম্ম কখন অবসন্ন হয় না। মনুষ্যের দ্রব্যার্জ্জন সূক্ষ্ম ব্যাপার। উপযুক্ত পাত্রে দান করা, তাহা হইতে শ্রেষ্ঠ। উপযুক্ত