কালে দীন, তাহার অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ, কিন্তু শ্রদ্ধাই সর্ব্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। স্বর্গদ্বার, অতি সূক্ষ্ম। মনুষ্য মোহবশতঃ তাহা দেখিতে পায় না। লোভবীজ তাহার অর্গলস্বরূপ। ক্রোধকর্ত্তৃক তাহা রক্ষিত। অতএব তাহা অতি দুরাসদ। যে পুরুষেরা জিতক্রোধ, জিতেন্দ্রিয়, যোগযুক্ত, তপস্বী, ব্রাহ্মণ, এবং যাঁহারা যথাশক্তি দান করেন, তাঁহারাই তাহা দেখিতে পান। যাঁহার শক্তি সহস্র পরিমিত, তিনি শত দান করিলে যে ফল হয়, যাঁহার শক্তি শত পরিমিত, তিনি দশদান করিলেই সেই ফল হয়। শক্তি অনুসারে কেবল জলদান করিলেও সেই ফল হয়। মহামূল্যদানে ধর্ম্ম প্রীত হন না, ন্যায়লব্ধ সামান্য বস্তু শ্রদ্ধাপুতচিত্তে দান করিলে সন্তুষ্ট হন। ঐশ্বর্য্য মনুষ্যের পুণ্যের কারণ নহে। সজ্জনগণ আপনার শক্তিতে যাহা সদুপায়ে উপার্জ্জন করেন, বিবিধ যজ্ঞ, সেই ন্যায়লব্ধ ধনের তুল্য পুণ্যের কারণ নহে। ক্রোধ দান ফল নষ্ট করে। লোভ থাকিলে কেহ স্বর্গে যাইতে পারে না। ন্যায়বৃত্তি দ্বারাই দানবিৎ স্বর্গপ্রাপ্ত হন। রন্তিদেব নামে রাজা দরিদ্রাবস্থায় শুদ্ধচিত্তে কেবল একটু জলদান করিয়াই স্বর্গে গমন করিয়াছিলেন। নৃগ রাজা ব্রাহ্মণগণকে সহস্র গো দান করিয়াও একটী পরকীয় গো দান করিয়াছিলেন বলিয়া তাঁহার নরকগমন হইয়াছিল। উশীনর পুত্র শিবিরাজা আত্মমাংস দান করিয়া পুণ্যবানগণের প্রাপ্য যে লোক তাহা লাভ করিয়া আনন্দ ভোগ করিতেছেন।[১] ফলতঃ পারিবারিক জীবনের সমস্ত বিষয়ই শ্রদ্ধাপূতচিত্তে সুসম্পন্ন করা সর্ব্বতোভাবে বিধেয়।
পারিবারিক সুখের প্রধান অন্তরায় মানবের ধর্ম্মহীনতা। ধর্ম্মভাব
- ↑ মহাভারত—শান্তিপর্ব্ব