ও ধর্ম্মানুষ্ঠানবিহীন পরিবার বর্ত্তমান ও ভাবী দুর্গতির উৎপত্তি স্থান। যাঁহারা ঈশ্বরের অযাচিত স্নেহের প্রতিনিধিজ্ঞানে জনকজননীকে ভক্তি করেন, যাঁহারা পতিপত্নীতে প্রাণের বিনিময় করিয়া, সম্মিলিতহৃদয়ে ঈশ্বরদত্ত সংসার সম্ভোগ করেন, যাঁহারা ঈশ্বরের ভাবে অনুপ্রাণিত হইয়া সন্তান প্রতিপালন করেন, তাঁহারাই যথার্থ পরিবার প্রতিপালন করেন। পরিবারসাধন তাঁহাদিগেরই পক্ষে তৃপ্তি ও সদগতির হেতু হইয়া থাকে। যাঁহারা পারিবারিক ক্ষুদ্র মহৎ প্রত্যেক ব্যাপার ঈশ্বরের অযাচিত করুণার অভিনয়রূপে প্রত্যক্ষ করিতে পারেন, পরিবার তাঁহাদিগের নিকট স্বর্গসুখের প্রতিকৃতিস্বরূপ, পারিবারিক উন্নতির জন্য তাঁহাদিগের পরিশ্রম, পুণ্যতীর্থের পথপর্য্যটনস্বরূপ, এবং তাঁহাদের পারিবারিক প্রত্যেক কার্য্য স্বর্গরাজ্যের সোপানস্বরূপ হইয়া থাকে।
ঠাকুরদাসের ঔরসে ও ভগবতী দেবীর গর্ভে সাত পুত্র ও তিন কন্যা জন্ম গ্রহণ করেন। পুত্রগণের নাম, ঈশ্বরচন্দ্র, দীনবন্ধু, শম্ভুচন্দ্র, হরচন্দ্র, হরিশচন্দ্র, ঈশানচন্দ্র ও ভূতনাথ। তিন কন্যার নাম,—মনোমোহিনী, দিগম্বরী ও মন্দাকিনী। আমরা যে সময়ের প্রসঙ্গ বলিতেছি, তখন ঈশ্বরচন্দ্র ও দীনবন্ধুর শুভ পরিণয় কার্য্য সুসম্পন্ন হইয়াছে। সুতরাং পুত্র, কন্যা, পুত্রবধূ ও পরিবারভুক্ত আশ্রিত আত্মীয় স্বজন লইয়া ভগবতী দেবীর এক বৃহৎ সংসার। সংসারই মানুষের প্রকৃত পরীক্ষার স্থল। সংসাররূপ পরীক্ষাক্ষেত্রে ভগবতী দেবী কি ভাবে ও কি পরিমাণে কর্ত্তব্যানুষ্ঠান করিতে পারিয়াছিলেন, নিম্নলিখিত ঘটনাবলী পাঠে পাঠকগণ তাহা হৃদয়ঙ্গম করিতে প্রয়াস পাইবেন।
আমরা পূর্ব্বেই বলিয়াছি, আলস্য পারিবারিক সুখের এক অন্তরায়।