আলস্য ও জড়তা যাহাতে পরিবার মধ্যে প্রবেশ লাভ করিতে না পারে, তৎপ্রতি ভগবতী দেবীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল। তিনি পরিবারস্থ প্রত্যেকের কতকগুলি কার্য্য নির্দিষ্ট করিয়া দিয়াছিলেন। পর্য্যায়ক্রমে প্রত্যেককেই সেই সকল কার্য্য প্রত্যহ সুসম্পন্ন করিতে হইত। এইরূপে একের করণীয় পরিশ্রমের ভার অপরকে বহন করিতে হইত না। সুতরাং পরিবার মধ্যে এ সম্বন্ধে মনোভঙ্গেরও কোন কারণ উপস্থিত হইত না। এই সকল পারিবারিক বিধি যাহাতে পরিবারস্থ সকলে ক্লেশকর মনে না করে, সেইজন্য তিনি স্বয়ং প্রাতঃকাল হইতে রজনীর প্রায় তৃতীয় প্রহর পর্য্যন্ত অক্লান্ত ভাবে পরিশ্রম করিতেন। প্রাতঃকালে শয্যাত্যাগ করিয়া প্রাতঃকৃত্য সমাপনান্তর গৃহ এবং গৃহের যাবতীয় পদার্থের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি তিনি মনোনিবেশ করিতেন। দ্রব্যের অপচয় সম্পত্তি সঞ্চয়ের বিরোধী, সকল দ্রব্য হইতেই কোন না কোন প্রয়োজন সাধিত হইতে পারে, এইজন্য তিনি অতি সামান্য দ্রব্যও সযত্নে রক্ষা করিতেন। গৃহসামগ্রী সকল বিশৃঙ্খল করিয়া রাখা, সম্পত্তি রক্ষা ও সম্পত্তি বৃদ্ধির প্রতিকূল। গৃহ এবং গৃহস্থিত দ্রব্যাদি শীঘ্র বিনষ্ট হইতে দিলে সত্বরই ধনক্ষয় হয়, এইজন্য তিনি সর্ব্বাগ্রে গৃহের যাবতীয় বিষয়ের শৃঙ্খলা স্থাপন করিতেন। এই সকল কার্য্যে তিনি গৃহের শিশু সন্তানদিগের সাহায্য গ্রহণ করিতেন। তিনি গৃহের সন্তানদিগকে শিক্ষা দিতেন, “আমি যদি গৃহে না থাকি, আর কেহ কোন দ্রব্য লইতে আইসে তাহা হইলে, ‘নাই’ কথা কখন মুখে আনিও না। আমি যে পরিমাণে দিই, সে পরিমাণে না দিলেও, কিছু দিবে। শুধু হাতে তাহাদিগকে ফিরাইয়া দিবে না।” তিনি প্রত্যহ স্বয়ং রন্ধন করিতেন এবং পরিবারস্থ
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১০৯
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পারিবারিক জীবন।
৯৫