সকলকে সমভাবে পরিবেশন করিতেন। এ সম্বন্ধে কেহ কখন তাঁহার পার্থক্য দৃষ্টিগোচর করে নাই। পরিবারস্থ সকলের আহারাদি সুসম্পন্ন হইতে দ্বিপ্রহর অতীত হইয়া যাইত। তৎপরে কোন অতিথি সমাগত হয় কি না দেখিবার জন্য তিনি দুই এক ঘণ্টা অপেক্ষা করিতেন। ইহার মধ্যে কোন অতিথি উপস্থিত হইলে, মুখের অন্নে অভ্যাগতের পরিচর্য্যা করিতেন। শেষে হয় ত স্বয়ং উপবাস কিম্বা সামান্য জলযোগ করিয়া সমস্ত দিন যাপন করিতেন। তিনি যে কেবল আপনার সংসার লইয়াই দিবারাত্রি ব্যস্ত থাকিতেন এরূপ নহে। প্রতিবেশীদিগের মধ্যে কেহ হয়ত পীড়িত হইয়াছে,পথ্যাদি রন্ধন করিয়া দিবার লোক নাই, এই সকল তাঁহার কর্ণগোচর হইলেই তিনি তৎক্ষণাৎ নিজ গৃহ হইতে পথ্যাদি রন্ধন করিয়া প্রসন্নচিত্তে তাহাকে দিয়া আসিতেন। নিরন্তর তিনি কোন না কোন কার্য্যে ব্যাপৃত থাকিতেন। দ্বিপ্রহর রজনীতে ভোজনান্তে যখন সকলে বিশ্রাম সুখ লাভ করিত, তখনও তিনি একাকিনী বসিয়া চরকায় সূতা কাটিতেন। এইরূপে সংসারকে তিনি এক প্রকৃত কর্ম্মক্ষেত্রে পরিণত করিয়াছিলেন এবং হিংসা, দ্বেষ, অসূয়া প্রভৃতি মানসিক ব্যাধি সমূহ যাহাতে পরিবারস্থ জনগণকে আক্রমণ করিতে না পারে, তিনি তাহার প্রকৃষ্ট উপায় বিধান করিয়া রাখিয়াছিলেন। পরনিন্দায়, পরচর্চ্চায় তিনি অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করিতেন। তিনি বলিতেন, “তুমি নিজের মন্দ না করিয়া কখন পরের অপকার করিতে পার না। অপরকে লঘু মনে করিতে গিয়া নিজেই লঘু হইয়া যাইবে। অপরের সহৃদয়তা গ্রহণ করিতে বিমুখ হইলে, তুমিও শীঘ্র হৃদয়শূন্য হইবে। তুমি স্বয়ং ভিন্ন অন্য কে তোমার অপকার করিতে পারে? তোমার যাহা অমঙ্গল
পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১১০
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৯৬
ভগবতী দেবী।