ঘটে তুমি নিজে তাহা দিবারাত্রি সঙ্গে সঙ্গে বহন করিয়া থাক; এবং নিজের দোষ ব্যতীত কখনই সত্য সত্য ক্লেশভোগী হও না। সুতরাং অপরের যাহা গুণ তাহাই দেখিবে ও আলোচনা করিবে। দোষের দিকে লক্ষ্য রাখিবে না। অন্যের প্রতি হিংসা, দ্বেষ প্রকাশ করিবে না। অন্যের ভাল দেখিলে আনন্দ প্রকাশ করিবে।”
ফলতঃ সমাজে থাকিয়া ন্যায় ও প্রীতির বন্ধন ছেদন করিতে গেলেই শীঘ্র শাস্তিভোগ করিতে হয়। ভয় ও আশঙ্কা নানাদিকে উদিত হইরা তাহার শাস্তি বিধান করে। যতদিন সহচর মানবগণের সহিত স্বভাবের সরল বন্ধনে আবদ্ধ থাকি, ততদিন তাহাদিগকে দেখিয়া কোন বিরক্তি জন্মে না। তখন পরস্পর মিলনে সরিৎ সঙ্গম বা দুই বায়ু প্রবাহের ন্যায় মিশিয়া এক হইয়া যাই। কিন্তু ঋজুপথ পরিত্যাগ করিয়া কুটিল পথ অবলম্বন করিলে, অথবা ‘আমার ভাল, তাহার নয়’ ইত্যাকার স্বার্থানুকূল কর্ম্মের চেষ্টা করিবামাত্র প্রতিবেশী অন্যায় বুঝিতে পারে। আমি তাহার প্রতি যতদূর সঙ্কোচ প্রকাশ করিয়াছি, সেও আমার প্রতি ততদূর সঙ্কোচ প্রকাশ করে। তাহার চক্ষু আর আমার চক্ষুকে অন্বেষণ করে না। বিরোধ উভয়ের অন্তরে উদিত হয় এবং তাহার মনে ঘৃণা ও আমার মনে ভয়ের সঞ্চার হইতে থাকে। সুতরাং আমার কার্য্যের জন্য আমিই একমাত্র দায়ী। ক্রিয়া মাত্রেরই দণ্ড ও পুরস্কার স্বতঃই বিহিত হইয়া থাকে। দণ্ড অপরাধের স্বভাবসহচর। অপরাধ ও দণ্ড এক বৃক্ষ হইতেই সমুৎপন্ন। দণ্ডরূপ ফল, প্রমোদ কুসুমের স্নিগ্ধ ও সুরভি অভ্যন্তরেই অজ্ঞাতসারে পরিপক্কতা লাভ করে। হেতু ও পরিণাম, উপায় ও উদ্দেশ্য, বীজ ও ফল, স্বভাবতঃ যুগ্ম সামগ্রী; তাহাদিগকে বিচ্ছিন্ন করা মনুষ্যের