মার কেন? উহারা রাত দিন ‘দাদা’, ‘দাদা’ ‘দিদী’, ‘দিদী’ করিয়া বেড়ায়; তোমাদের কি একটু মায়া মমতা হয় না; ওরূপ অধৈর্য্য কেন? মিষ্ট কথায় উহাদিগকে বুঝাইয়া দিলেই হয়।” এইরূপে পরিবার মধ্যে যাহাতে ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা গুণের আধিক্য পরিলক্ষিত হয় সে বিষয়ে ভগবতী দেবী বিশেষ যত্নবর্তী ছিলেন। পরস্পরের প্রতি পরস্পরের যাহাতে অনুরাগ বৃদ্ধি হয়, তিনি তাহারই উপায় বিধান করিতেন। ফলতঃ ভক্তি, প্রেম, প্রণয় ও স্নেহাদি অনুরাগেরই অন্তর্ভূত। ‘ইহা আমার অনুকূল’ এই জ্ঞানই অনুরাগ বা প্রীতির মূলে বর্ত্তমান এবং ইহার বাহ্য প্রকাশই উক্ত ভক্তি ইত্যাদি। কোথায়ও ইহার ব্যভিচার দৃষ্টিগোচর হয় না। ভক্তি, প্রেম, প্রণয় ও স্নেহাদি সকলই এই অনুরাগ মহোদধির ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা মাত্র। ভক্তি বা প্রেম উৎপত্তির পূর্ব্বে ভক্তিভাজন ও প্রেমাস্পদের সৌন্দর্য্য অনুভূত হয়, অনন্তর ‘ইনিই আমার অনুকূল’ এবম্বিধ জ্ঞান জন্মে; ক্রমে উহা ধারাবাহিক রূপ ধারণ করে এবং ঘনীভূত হইতে থাকে। তখনই মানব অন্যবস্তু ভুলিতে থাকে। অবিরত ঐ ছবি তাহার সম্মুখে বর্ত্তমান থাকে। অবিশ্রান্ত এই সৌন্দর্যময়ী ধারা চিত্তে প্রবাহিত থাকিয়া যাবতীয় পদার্থে সেই মনোনোহন রূপের সম্বন্ধ আনয়ন করিয়া তাহাকে বিচিত্র রসানুভব করাইতে থাকে। ভগবতী দেবী পুত্র ও পুত্রবধূদিগের মধ্যেও পরস্পরের সৌন্দর্য্যের অনুভূতি দ্বারা যাহাতে অনুরাগ বৃদ্ধি পায়, সে বিষয়েও সবিশেষ যত্নবর্তী ছিলেন।
নবীনা বধূরা তাঁহার স্নেহ মমতায় এরূপ মুগ্ধ হইয়াছিলেন যে, শ্বশুর গৃহে আসিয়া একদিনের জন্যও তাহারা মাতার অভাব অনুভব করিতে