বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বিদ্যাসাগর জননী ভগবতী দেবী - প্রিয়দর্শন হালদার (১৯১৩).pdf/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
পারিবারিক জীবন।
১০১

পারেন নাই। পিত্রালয় অপেক্ষা শ্বশুরালয়ে তাঁহারা পরম সুখে কালাতিপাত করিয়াছিলেন।

 ভগবতী দেবী পুত্রকন্যাদিগকে বিলাসিতা ও আত্মসুখ বিসর্জ্জন করিতে সতত শিক্ষা দিতেন। কন্যাগণকে বলিতেন, “তোমাদের বিবাহ হইলে, স্বামীর নিকট গহনা বা ভাল কাপড়ের প্রার্থনা করিও না। বরং সেই অর্থ যাহাতে পরের দুঃখমোচনে ব্যয় করিতে পার, তাহার চেষ্টা সর্ব্বতোভাবে করিবে।” ভগবতী দেবী ও ঠাকুরদাসের স্বর্ণালঙ্কারের প্রতি বিলক্ষণ দ্বেষ ছিল। তাঁহারা প্রায়ই বলিতেন, “বাটীর স্ত্রীলোকদিগকে অলঙ্কার দিলে, বাটীতে ডাকাইতি এবং দস্যুর ভয় হইবে। স্ত্রীলোকদিগের মনে অহঙ্কারের উদয় হইবে, এবং গৃহস্থালী কার্য্যে তাহাদের সেরূপ যত্ন থাকিবে না। দীন দরিদ্রের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করিবে। অলঙ্কার না করিয়া ঐ টাকায় যথেষ্ট অন্নব্যয় করিতে পারিব। তাহাতে দরিদ্র বালকেরা আমাদের বাটীতে ভোজন করিয়া লেখাপড়া শিখিতে পারিবে।” বাটীর স্ত্রীলোকদিগকে তাঁহারা সূক্ষ্মবস্ত্র পরিধান করিতে দিতেন না। কখন কখন কলিকাতা হইতে সূক্ষ্ম বস্ত্র পাঠাইয়া দিলে অভ্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করিতেন। বাটীর স্ত্রীলোকদিগের জন্য মোটা বস্ত্র ক্রয় করিয়া দিতেন। এবং পাকাদি সাংসারিক কার্য্য করিবার জন্য সর্ব্বদা উপদেশ দিতেন।

 ভগবতী দেবী পারিবারিক প্রত্যেক কার্য্যই শ্রদ্ধাপূতচিত্তে সম্পন্ন করিতেন। গৃহে কোন অতিথি উপস্থিত হইলে, ভগবতী দেবী স্বহস্তে পরিবেশন করিয়া ভোজন না করাইলে নিরতিশয় দুঃখানুভব করিতেন। নবাগত ব্যক্তিদিগের যাহাতে কোন প্রকার ক্লেশ না হয়, তজ্জন্য