তিনি প্রাণপণে যত্ন ও চেষ্টা করিতেন। শারীরিক অসুস্থ থাকিলেও তিনি অতিথিদিগকে আহার না করাইয়া শয়ন করিতেন না। অনেক পরিবারে এরূপ দেখা যায় যে, পরিবারস্থ লোকেরা যে প্রকার সুখ ও সুবিধার আহারাদি করে, অতিথিদিগের ভাগ্যে সেরূপ ঘটে না। কিন্তু ভগবতী দেবীর গৃহে সেরূপ বৈষম্য ছিল না। সকলকে সমানভাবে আহার্য্য প্রদত্ত হইত; বরং অভ্যাগতদিগের বিশেষ সমাদর হইত। এক সময়ে স্কুলসমূহের ইনস্পেক্টার প্রতাপনারায়ণ সিংহ ভগবতী দেবীর গৃহে অতিথি হন। ভগবতী দেবী একখানি থালায় করিয়া স্বহস্তে অন্ন আনয়ন করিলে, প্রতাপনারায়ণ বলিলেন, “বাটীর সকলে যে প্রকার শালপাতায় ভোজন করেন, আমিও তাঁহাদের সঙ্গে একত্র বসিয়া তদ্রূপ ভোজন করিব।” ভগবতী দেবী এই কথা শুনিয়া ঈষৎ হাস্য করিয়া বলিলেন, “তুমি বড় ঘরের ছেলে। তুমি যে সকলের সহিত একত্র হইয়া শালপাতায় খাইতে চাহিতেছ, ইহা অতি আশ্চর্য্যের কথা। আমার মনে হয় তোমার প্রকৃত জ্ঞানলাভ হইয়াছে।”
তিনি বিদেশীয় অনুপায় রোগীদের শুশ্রূষাদি কার্য্যে বিশেষরূপ বত্নবতী ছিলেন। কাহারও নিরামিষ ব্যঞ্জন, কাহারও মৎস্যের ঝোল প্রভৃতি স্বয়ং প্রস্তুত করিয়া দিতেন, তাঁহাকে এই কার্য্যে কেহ কখনও বিরক্ত হইতে দেখে নাই। বাটীর অন্যান্য স্ত্রীলোকেরাও এই সকল বিষয়ে তাঁহার অনুকরণ করিতেন। বিবাহিতা বিধবাদের মধ্যে কেহ পীড়িতা হইয়া চিকিৎসার জন্য বাটীতে আসিলে, অথবা অপর কেহ রোগগ্রস্ত হইয়া উপস্থিত হইলে, ভগবতী দেবী তাঁহাদের মলমূত্রাদি পর্য্যন্ত পরিষ্কার করিতেন, তাহাতে কিছুমাত্র ঘৃণা বোধ করিতেন না।