এবং তাঁহার অসামান্য দয়াও কখন পক্ষপাতের ছারা স্পর্শ করিত না। তিনি সকল সময়েই নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক ছিলেন। সকল সময়েই পবিত্রতার কমনীয় কান্তি তাঁহাকে গৌরবান্বিত করিয়া রাখিত। ঈশ্বরের প্রতি নির্ভরের ভাব তাঁহাকে সকল সময়েই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও অধ্যবসায় সম্পন্ন করিয়া রাখিত। তিনি যেন প্রাণে প্রাণে উপলব্ধি করিতেন যে, এই জগৎ মধ্যে একজন মহান সর্ব্বভারাক্রান্ত চিন্ময় কর্তা সর্ব্বত্র বিদ্যমান থাকিয়া, মানুষের সঙ্গে সঙ্গে সহকারীর ন্যায় কর্ম করিতেছেন। সেই সত্যনিষ্ঠ স্বভাবস্থিত পুরুষ, কোন কাল বিশেষ বা স্থান বিশেষের প্রসূত নহেন। প্রত্যুত তিনি যাবৎ সংসারের কেন্দ্রবর্ত্তী; যেখানে তিনি বিদ্যমান, সেইখানেই সৃষ্টি স্থিতিশীলা; এবং তিনিই তোমার আমার ও মানবজাতির এবং অনন্ত ঘটনা প্রবাহের একমাত্র মানদণ্ড। এইরূপ ধর্ম্মভাবে অনুপ্রাণিত হইয়া তিনি সংসার সাধন করিয়াছিলেন বলিয়াই তাঁহার সংসার শান্তি-নিকেতনে পরিণত এবং ঐশ্বর্যাশ্রীতে গৌরবান্বিত হইয়াছিল।
সন ১২৭৬ সালের শ্রবণ মাসের শেষে বিদ্যাসাগর ভগবতী দেবীকে কাশীবাস করিবার জন্য পিতৃসন্নিধানে পাঠাইয়া দেন। তিনি কাশীধামে ঠাকুরদাসের নিকট কতিপয় দিবস অবস্থিতি করেন। তদনন্তর অন্যান্য তীর্থস্থান পর্য্যটন করিয়া পুনর্ব্বার কাশীধামে সমুপস্থিত হন। ভগবতী দেবী ঠাকুরদাসকে বলিলেন, “এখন হইতে এখানে অবস্থিতি করা অপেক্ষা আমি দেশে অবস্থিতি করিলে, অনেক অক্ষম দরিদ্র লোককে ভোজন করাইতে পারিব। দেশে বাস করিয়া প্রতিবাসি বর্গের অনাথ শিশুগণের আনুকূল্য করিতে পারিলেই আমার মনে সুখ হইবে।