ভগবতী দেবী ও ঠাকুরদাসের দাম্পত্য প্রেম অতীব মধুর ছিল। ফলতঃ প্রকৃত দাম্পত্য প্রেম জগতে অতি দুর্লভ পদার্থ এবং বহু পুণ্যফলেই লাভ হইয়া থাকে। এ সম্বন্ধে মহাকবি ভবভূতির গভীর ভাবপূর্ণ শ্লোকটাই মনে পড়ে:—
“অদ্বৈতং সুখদুঃখয়েরিমুগুণং সর্ব্বাস্ববস্থানুযৎ—
বিশ্রামো হৃদয়স্য যত্র জরসা যস্মিন্নহার্য্য্যোরসঃ।
কালেনাবরণাতায়াৎ পরিণতে যৎ স্নেহসারেস্থিতং
ভদ্রং প্রেম সুমানুষস্য কথমপোকং হি তৎ প্রাপ্যতে।”
যে প্রেম সুখে ও দুঃখে একরূপ, সকল অবস্থায় অনুরূপ, যাহা অবলম্বন করিয়া সাংসারিক দুঃখরাশি নিপীড়িত হৃদয় বিশ্রামসুখ লাভ করে, বার্দ্ধক্যেও যাহার মাধুর্য্য অপহৃত বা বিলুপ্ত হয় না, এবং কালের আবর্ত্তনে লজ্জাদি প্রতিবন্ধকের অপগমে, যাহা পরিপক্কতা প্রাপ্ত হইয়া স্নেহরসে পরিণত হয়, সেই শ্রেষ্ঠ অকপট সজ্জনের প্রেম বহু পুণ্যফলে প্রাপ্ত হওয়া যায়।
পারিবারিক ধর্ম্মের মধ্যে স্ত্রীজাতির সতীত্বধর্ম্ম সর্ব্বশ্রেষ্ঠ। যেমন গন্ধবিহীন পুষ্প, বিনয়বিহীন ধার্ম্মিক, মীনহীন সরোবর ও তরুহীন জনপদ অনুশোচ্য; সতীত্ববিহীন রমণীও ততোধিক অনুশোচ্য। সকল ব্রত অপেক্ষা পাতিব্রত্যব্রত অতি কঠোর। এই ব্রত আত্মোৎসর্গের পূর্ণ বিস্ফুরণ। প্রকৃত পাতিব্রত্য কেবলমাত্র বাহ অনুষ্ঠানে আবদ্ধ নহে; আভ্যন্তরীণ তন্ময়ত্বও সেই আভ্যন্তরীণ তন্ময়ত্বের বাহ্যক্রিয়া—এই দুইটা ইহার অঙ্গীভূত। স্থূলদর্শীরাই ধর্ম্মের বাহাড়ম্বরে ভুলিয়া যান। কিন্তু ধর্ম্ম বাহিরের জিনিষ নয়। ইহা হৃদয়ের জিনিষ, প্রাণের জিনিষ,